Wednesday, May 22, 2024
গাইডব্লগ

সিপিএ মার্কেটিং কী? সিপিএ মার্কেটিং কীভাবে কাজ করে?

আমরা যারা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সাথে সরাসরি বা কোনো না কোনোভাবে যুক্ত অথবা যারা ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে আগ্রহী, তাদের কাছে সিপিএ(CPA) মার্কেটিং ও এফিলিয়েট মার্কেটিং খুব পরিচিত একটি শব্দ। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের কাছেই এই ব্যাপারটি সম্পূর্ণ নতুন। আসলে সিপিএ(CPA) মার্কেটিং হচ্ছে ডিজিটাল https://innoshop.co/blog/research-paper-assistance-learn-about-it/

High School Student’s Essay Assist – Strategies an Expert Academic Writing Service

How to Buy Essays Online From Respectable Firms

Tips For Choosing an Essay Writing Service

The Benefits of Writing Research Papers For Sale

Urgent Essay Writing Services – 3 Reasons Why They’re a Great Choice!

How to Write an Essay – Various Essay Writing Styles

How to Buy Custom Essays For Hire From Professional Writers

How to Hire the Best College Essay Writers

Tips For Finding Cheap Research Papers For Sale Online

Tips on Choosing the Best Term Paper Writer

test

4 مراحل هي دورة حياة المنتج في التسويق


https://innoshop.co/blog/5-tech-firms-racing-to-invest-in-ai-startups/

خطوات فعالة لبناء استراتيجيات التسويق الالكتروني 2022

ما هي الإعلانات المبوبة و انواعها و نصائح حولها؟

ما هي المدونة وما مميزاتها وما الفرق بينها و بين باقي مواقع الإلكترونية

كيفية الربح من تيك توك 2022؟ افضل الطرق والأسرار الجديدة للربح

Find out how I can write my Paper for Cheap

How to Write an Essay Using an Overview


https://innoshop.co/blog/online-gamagische mehrzweck klebeband define patrimonio cultural corbata de colegio aspirapolvere hoover amazon amazon talles de zapatillas nike equivalencias nespresso coffee nutrition facts ford focus klimaanlage geht nicht ofertas bicicletas montaña corte ingles taufketten mädchen tisch tiefkühlschrank trasportino auto per cani amazon jeu de poker gratuit pour gagner des cadeaux como limpiar unas zapatillas de ante offerte su cellulari gants batteur under armour mbling-website-tips/

Tips When Looking For a Research Paper Writing Service


মার্কেটিংয়ের এমন একটি ক্ষেত্র যা বর্তমানে বহুল প্রচলিত। ডিজিটাল মার্কেটিং দিন দিন আরো জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে সিপিএ(CPA) মার্কেটিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সিপিএ মার্কেটিং কী? আপনি কীভাবে সিপিএ মার্কেটিং শুরু করবেন? আজকে আমরা চেষ্টা করবো এই ব্যাপারগুলো বিস্তারিত জানানোর। 

সূচিপত্র

সিপিএ(CPA) মার্কেটিং কী?

সিপিএ(CPA) মার্কেটিং কী

সিপিএ মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে হলে সর্বপ্রথম আমাদের জানতে হবে সিপিএ মার্কেটিং বলতে কী বোঝায়। সিপিএ(CPA) এর পূর্ণরূপ হচ্ছে কস্ট পার অ্যাকশন (Cost per action)। ধরুন, আপনাকে কোনো একটি কাজ দেওয়া হয়েছে। আপনি যদি সেটা ঠিকঠাক মতো করতে পারেন তাহলে আপনি কিছু কমিশন বা অর্থ পাবেন। আর এটাই হলো সিপিএ মার্কেটিং। 

আপনি ভাবতে পারেন যে তাহলে কি সিপিএ মার্কেটিং আর এফিলিয়েট মার্কেটিং একই কথা? উত্তর হচ্ছে, না। 

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে আপনি প্রচার-প্রচারণা চালানোর পর যতক্ষণ না পণ্য বিক্রি হচ্ছে ততক্ষণ আপনি কমিশন পাবেন না। আপনি প্রচার-প্রচারণা চালালেন, কিন্তু তাও পণ্যটি বিক্রি হলো না। সেক্ষেত্রে আপনি কোনো কমিশন পাবেন না। কিন্তু সিপিএ মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে আপনাকে যে কাজটি দেওয়া হবে, সেটি যদি আপনি সঠিকভাবে করতে পারেন, তাহলে সাথে সাথেই আপনি আপনার প্রাপ্য অর্থ পেয়ে যাবেন। 

ধরুন, কোনো একটি প্রতিষ্ঠান আপনাকে তাদের পণ্যের প্রচার-প্রচারণা চালানোর জন্য একটি সফটওয়্যার ডাউনলোড করে দিতে। বা তাদের টার্গেট অডিয়েন্সদের নিয়ে একটা সার্ভে করতে বলেছে। অথবা ধরুন, মার্কেটিংয়ের জন্য গ্রাহকদের কাছে কিছু ইমেইল সাবমিট করতে বলেছে। আপনি যদি তাদের দেওয়া কাজগুলো ঠিকঠাক মতো করে দিতে পারেন, তাহলে তারা আপনাকে কিছু কমিশন বা অর্থ দিবে। এটাই হলো সিপিএ মার্কেটিং। 

সিপিএ মার্কেটিং কীভাবে কাজ করে?

সিপিএ মার্কেটিং কীভাবে কাজ করে

সিপিএ মার্কেটিং যেভাবে কাজ করে সেটি বেশ আকর্ষণপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াটি মোটেও জটিল কিছু নয়, বরং অত্যন্ত সহজ একটি প্রক্রিয়া। সিপিএ মার্কেটিং কীভাবে কাজ করে এবং এগুলোর সাথে কারা যুক্ত থাকে এগুলোর ভিত্তিতে সিপিএ মার্কেটিংকে কয়েকটি ধাপে বিভক্ত, যেমন : 

  • এফিলিয়েট বা পাবলিশার

এফিলিয়েট বা পাবলিশার বলতে মূলত যারা পণ্যের প্রচার-প্রচারণা চালায়, তাদেরকে বোঝায়। অর্থাৎ, তাদের কাজ হলো নিজেদের ব্যক্তিগত প্লাটফর্মে কোনো প্রতিষ্ঠান বা পণ্যের চালিয়ে তা গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো। গ্রাহক পণ্যটি কেমন পছন্দ করবে, কতজন গ্রাহকের কাছে প্রচারণাটি পোঁছাচ্ছে এই বিষয়গুলি নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব এফিলিয়েট বা পাবলিশারের। 

  • ব্যবসা বা বিজ্ঞাপনদাতা 

ব্যবসা বা বিজ্ঞাপনদাতা বলতে মূলত পাবলিশার বা এফিলিয়েট যে প্রতিষ্ঠানের পণ্যের প্রচার-প্রচারণা করে সে প্রতিষ্ঠানটিকে বোঝায়। মূলত প্রতিষ্ঠান মার্কেটার ও নেটওয়ার্কগুলোর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় নিজেদের গ্রাহক বাড়ানোর জন্য। যত বেশি গ্রাহক পাওয়া যাবে তত বেশি সেই প্রতিষ্ঠান এবং তার পণ্যের কথা মানুষ জানতে পারবে। 

  • সিপিএ নেটওয়ার্ক 

সিপিএ নেটওয়ার্ক হলো এমন একটি প্লাটফর্ম যারা মার্কেটার ও প্রতিষ্ঠান উভয়কেই একসাথে এনে দাঁড় করায়। প্রতিষ্ঠানগুলো চায় তাদের পণ্যগুলো যাতে গ্রাহক পর্যন্ত পৌঁছায়। আর মার্কেটার হলো তারা যারা পণ্যের প্রচার-প্রচারণা করে তা গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়। উভয়েরই উদ্দেশ্য পূরণের মাধ্যম হলো সিপিএ নেটওয়ার্ক। যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্যগুলো সম্পর্কে জানিয়ে দেয়। আর মার্কেটাররা তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তা গ্রাহকের কাছে সেগুলোর প্রচারণা করে থাকে। 

মূলত এগুলোর সমন্বয়েই সিপিএ মার্কেটিং কাজ করে। 

সিপিএ(CPA) মার্কেটিংয়ের সুবিধা কী কী?

সিপিএ(CPA) মার্কেটিংয়ের সুবিধা কী কী

বর্তমানে অন্যান্য ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশলগুলোর তুলনায় সিপিএ মার্কেটিংয়ে অনেক বেশি সুবিধা পাওয়া যায়৷ যেমন :

  • এটি খুব সহজ একটি প্রক্রিয়া

সিপিএ মার্কেটিং অত্যন্ত সহজ একটি প্রক্রিয়া। এই ক্ষেত্রে আপনি কোনো সিপিএ নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে আপনার ব্যক্তিগত প্লাটফর্মে সিপিএ লিংক জেনারেট বা শেয়ার করে কাজগুলো করতে পারবেন৷ তাছাড়া এখানে আপনার খুব বেশি অর্থের প্রয়োজন হবেনা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই সিপিএ মার্কেটিংয়ের কাজগুলো করতে পারবেন। অর্থাৎ, আপনি ফ্রি সিপিএ মার্কেটিং করবেন নাকি পেইড সিপিএ মার্কেটিং করবেন, সেটা সম্পূর্ণ আপনার হাতে। 

  • বিক্রয় নিয়ে কোনো রকম দুঃশ্চিন্তায় পরতে হয় না 

এফিলিয়েট মার্কেটিংসহ বেশিরভাগ ডিজিটাল মার্কেটিং প্রক্রিয়াগুলোতে আপনি পণ্য বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত কমিশন বা অর্থ পাবেন না। তাই সবারই একটা দুঃশ্চিতা কাজ করে যে পণ্যগুলো গ্রাহক পছন্দ করছে কিনা, বিক্রি করছে কিনা। কিন্তু সিপিএ মার্কেটিংয়ে আপনাকে এরকম কোনো দুঃশ্চিন্তা করতে হয় না৷ কারণ আপনাকে যেই কাজই দেওয়া হবে সেটা সম্পন্ন হওয়া মাত্রই আপনি আপনার পারিশ্রমিক পেয়ে যাবেন। 

আপনার জেনারেট করে লিংকে কেউ একটি ক্লিক করলেও সেখান থেকে আপনি কমিশন পেতে পারেন৷ তাই এক্ষেত্রে আপনাকে অন্য কোনো কিছু নিয়ে ভাবতে হয় না। 

  • ঝুঁকি অনেক কম

সিপিএ মার্কেটিং আসলে এমন এক প্রকার মার্কেটিং যেখানে কোনো রকম ঝুঁকি নেই বললেই চলে। আপনি যখন অন্য কোনো প্রকার মার্কেটিং করেন তখন কিন্তু একটা ভয় আপনার মনের মধ্যে কাজ করে যে আপনি পণ্য বা সেবার মার্কেটিং ঠিক মতো করতে পারছে কিনা, কতজন গ্রাহকের কাছে তা পৌঁছেছে, গ্রাহক সেটা পছন্দ করছে কিনা, কতগুলো পণ্য বিক্রি হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। 

কিন্তু এই ক্ষেত্রে আপনাকে এগুলো কিছুই ভাবতে হয় না। কারণ এখানে আপনার মূল কাজ হলো অডিয়েন্সকে লিংকে ক্লিক করিয়ে আপনি যে সিপিএ নেটওয়ার্কের আওতায় কাজ করছেন তাদের অব্দি নিয়ে যাওয়া। এর বাইরে আর কিছুই আপনার ভাবনার বিষয় না৷ আর প্রত্যেকটা কাজ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আপনি আপনার কমিশন পেয়ে যাবেন। তাই আপনি নিশ্চিন্তে কাজ করে যেতে পারেন। 

সিপিএ(CPA) মার্কেটিং বনাম এফিলিয়েট মার্কেটিং

সিপিএ(CPA) মার্কেটিং বনাম এফিলিয়েট মার্কেটিং  

সিপিএ মার্কেটিং আর এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের কাজের মধ্যে মিল থাকলেও কৌশলগত দিক দিয়ে তাদের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। নিম্নে সেগুলো তুলে ধরা হলো : 

                  সিপিএ মার্কেটিং                এফিলিয়েট মার্কেটিং 
১. সিপিএ মার্কেটিংয়ে পণ্য বিক্রি করা বাধ্যতামূলক না, কেবলমাত্র লিংক জেনারেট বা কোনো নির্ধারিত কাজ করেই আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।  ১. এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে পণ্যের প্রচার-প্রচারণা চলানো এবং তা বিক্রি করা বাধ্যতামূলক। 
২. সিপিএ মার্কেটিংয়ে আপনাকে নেটওয়ার্ক থেকে যে কাজটি দেওয়া হবে, সেটা ঠিকঠাক মতো করতে পারলেই আপনি আপনার প্রাপ্য কমিশন পেয়ে যাবেন। ২. এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে আপনি প্রচার-প্রচারণা চালালেও যতক্ষণ না পণ্য বিক্রি হচ্ছে, ততক্ষণ আপনি কোনো কমিশন পাবেন না। 
৩. এই মার্কেটিংয়ের কৌশলটি তুলনামূলক সহজ।  ৩. এই মার্কেটিং প্রক্রিয়াটি সিপিএ মার্কেটিংয়ের তুলনায় কিছুটা কষ্টসাধ্য।  
৪. সময় কম ব্যয় হয়।  ৪. কিছুটা সময়সাপেক্ষ। 
৫. কম বিনিয়োগ করতে হয়।  ৫. এক্ষেত্রেও খুবই অল্প বিনিয়োগ করতে হয়, তবে তা সিপিএ মার্কেটিংয়ের তুলনায় বেশি। 
৬. সিপিও মার্কেটিং নেটওয়ার্কগুলোতে দেওয়া সিপিএ লিংকগুলোর একটা নির্ধারিত মেয়াদ  থাকে।  সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আপনি চাইলেও সেই লিংকটি আর প্রচার কর‍তে পারবেন না।   ৬. এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে আপনি যে পণ্যের লিংকটি প্রচার বা জেনারেট করতে চান সেটা আপনি সারাজীবন প্রচার করতে পারবেন, যদি না প্রতিষ্ঠান থেকেই পণ্যটি সরিয়ে নেওয়া হয়। 
৭. সিপিএ লিংকগুলো একটা সময় পর আর কাজ করে না দেখে এক্ষেত্রে আয় কিছুটা কম হয়।  ৭. যতদিন পণ্য বাজারে আছে ততদিন সেটার এফিলিয়েট লিংকও থাকবে। আপনি যদি সেটা একবারও প্রচার করেন, এরপর থেকে সারাজীবন যারা ঐ লিংক ব্যবহার করে পণ্য কিনবে, ততবারই আপনি কমিশন পাবেন৷ 
৮. সিপিএ মার্কেটিংয়ে আপনি যদি কাউকে কোনো লিংক রেফার করেন, অতঃপর সে যদি আর কাউকে রেফার করে সেক্ষেত্রে আপনি কোনো কমিশন পাবেন না, কেবলমাত্র আপনার রেফার করা লিংকেরটাই পাবেন ৮. এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে কেউ যদি আপনার রেফারেন্সে যোগ দেয়, তাহলে তার বিক্রি করা প্রত্যেকটি পণ্যের জন্য আপনিও কমিশন পাবেন। 
৯. সিপিএ মার্কেটিংয়ে আপনাকে কোনো রকম ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয় না।  ৯. এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে আপনি পণ্যের প্রচার ঠিক মতো করছেন কিনা, পণ্য বিক্রি হচ্ছে কিনা – এগুলোর উপর আপনার কমিশন নির্ভর করে। তাই এক্ষেত্রে কিছুটা ঝুঁকি থেকেই যায়। 
১০. উদাহরণ : ধরুন আপনি কোনো সিপিএ নেটওয়ার্কিং সাইটের সাথে যুক্ত হয়েছেন। সেখানে কোনো একটি প্রতিষ্ঠান যেমন ফেসবুক এমন একটি কাজ দিয়েছে যে তাদের প্লাটফর্মে ১৫ জনকে রেজিষ্ট্রেশন করাতে হবে। এখন আপনি যদি সেই লিংকটি আপনার ব্যক্তিগত প্লাটফর্মে শেয়ার করে দেন, সেক্ষেত্রে আপনার দেওয়া লিংক থেকে যদি ১৫ জন মানুষ ফেসবুকে রেজিষ্ট্রেশন করে সেক্ষেত্রে আপনি ফেসবুক থেকে একটি কমিশন পাবেন। ১৫ জনের বেশি রেজিষ্ট্রেশন করলে আপনার কমিশনও বাড়বে। ঐ মানুষগুলো যদি পরবর্তীতে আর কখনো ফেসবুক ব্যবহার নাও করে তাও আপনি কমিশন পাবেন, কারণ আপনি ইতিমধ্যে আপনাকে দেওয়া কাজ করে ফেলেছেন। এটাই সিপিএ মার্কেটিং।  ১০. উদাহরণ : ধরুন আপনি আপনি কোনো এফিলিয়েট নেটওয়ার্কিং সাইটের সাথে যুক্ত হয়ে সেখান থেকে আপনার পছন্দমতো পণ্য বাছাই করে আপনার নিজস্ব প্লাটফর্মে গ্রাহকের কাছে সেটার প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন। গ্রাহক যদি সেটা পছন্দ করে এবং পণ্যটি ক্রয় করে, সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি আপনাকে একটা ভালো কমিশন দিবে। এটাই হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং। 

সিপিএ নেটওয়ার্ক টার্মিনোলজি বা পরিভাষা

সিপিএ নেটওয়ার্ক টার্মিনোলজি বা পরিভাষা

আসলে সিপিএ নেটওয়ার্ক পরিভাষা মোটেও জটিল কিছু নয়। এর সাথে সংযুক্ত কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো বুঝলে আপনি সহজেই ব্যাপারটা আয়ত্ত করতে পারবেন৷ নিম্নে সেগুলো আলোচনা করা হলো : 

  • এফিলিয়েট ম্যানেজার

এফিলিয়েট ম্যানেজার হলেন তিনি যিনি একজন ব্যবসায়ীর সম্পূর্ণ এফিলিয়েট প্রোগ্রামটি সামলানোর দায়িত্বে থাকেন। মার্কেটার নিয়োগ করা, তাদেরকে সবরকম সাহায্য করা, ব্যবসায়ীর জন্য রাজস্ব উৎপাদন করা সবই একজন এফিলিয়েট ম্যানেজার  দায়িত্বের মধ্যে পরে। 

  • ক্যাটাগরি 

ক্যাটাগরি বলতে মূলত যে নিশের ভিত্তিতে সিপিএ অফারগুলো দেওয়া হয় সেই নিশগুলোকে বোঝায়। যেমন : খেলাধূলা, ফ্যাশন, স্বাস্থ্য ইত্যাদি। 

  • চার্জব্যাক 

ধরুন কোনো একটা পণ্য বিক্রির জন্য মার্কেটারকে ইতিমধ্যেই পারিশ্রমিক দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেলো সে পণ্যটি আশানুরূপ বিক্রি হলো না, বা বিক্রি হওয়ার পর সেখানে কোনো ত্রুটি থাকায় বা গ্রাহকের মন মতো না হওয়ায় তারা সেটি ফিরিয়ে দিলো। সেক্ষেত্রে মার্কেটারকে পুনরায় কমিশনটি ঐ প্রতিষ্ঠানটিকে ফেরত দিতে হয়। এটাকেই বলা হয় চার্জব্যাক। 

  • কমিশন

একজন মার্কেটার তার বিজ্ঞাপন বা প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে পণ্য বিক্রয়ের জন্য যে পারিশ্রমিক লাভ করে তাকেই বলা হয় কমিশন। এটি কোনো নির্ধারিত মূল্য বা শতকরা হারা দুইভাবেই দেওয়া যেতে পারে। 

  • কনটেক্সচুয়াল লিংক (Contextual Link)

এটি হলো এমন একটি টেক্সট লিংক যা এফিলিয়েট ওয়েবসাইটে থাকে এবং যা বিজ্ঞাপনদাতা বা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের সাথে যুক্ত থাকে। 

  • কনভারসন রেট বা রূপান্তরের হার 

যতগুলো কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে তাকে মোট গ্রাহক দ্বারা ভাগ করে, অতঃপর প্রাপ্ত মানটিকে শতকরায় প্রকাশ করে যে হার বা মান পাওয়া যায়, তাকেই কনভারসন রেট বা রূপান্তরের হার বলে। 

  • কস্ট পার একশন(Cost Per Action)

কোনো একটা কাজ কতটা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, কীভাবে হয়েছে, আশানুরূপ হয়েছে কিনা এগুলোর উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠান বা বিজ্ঞাপনদাতা মার্কেটারকে অর্থ দিয়ে থাকে৷ একেই কস্ট পার একশন বলা হয়। 

  • কুকিজ(Cookies)

যখন কোনো ব্যক্তি আপনার দেওয়া এফিলিয়েট লিংকে প্রবেশ করে, তখন ওই ব্যক্তির ব্রাউজারে কয়েকটি কোড জমা হয়। এই কোডগুলোই হচ্ছে কুকিজ। সচরাচর ৩ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত কুকিজের মেয়াদ থাকে। ব্যবহারকারী যদি ব্রাউজার হিস্ট্রি আর কুকিজ ফাইলগুলো ডিলিট করে না দেন, তাহলে এই সময়ের ফাকে কুকিজ ব্যবহারকারী যদি আপনার প্রচার করা পণ্য ছাড়াও ওই ওয়েবসাইটের অন্য কোনো পণ্যও কিনে থাকে, তাহলেও আপনি কমিশন পাবেন৷ 

  • আর্নিংস পার ক্লিক(Earnings Per Click)

কোনো ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যখন কোনো  এফিলিয়েট লিংকে ক্লিক করবে, তখন যে মার্কেটার এই এফিলিয়েট লিংকটি জেনারেট করেছে তার খাতে আয় জমা হবে। যত বেশি ক্লিক হবে, তত বেশি আয় হতে থাকবে৷ এজন্যই বলা হয় আর্নিংস পার ক্লিক। 

  • অফার পেজ (Offer Page)

যে ওয়েবপেজে ভিজিটররা প্রবেশ করে বিভিন্ন রকম পণ্যের অফারগুলো দেখতে পারে, তাকে বলা হয় অফার পেজ। 

  • রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (Return On Investment)

মোট রাজস্বকে বিনিয়োগ দ্বারা ভাগ করে অতঃপর তাকে ১০০ দিয়ে গুণ করে যে পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায় তাকে রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট বলে। 

এগুলোর বাইরেও আরো কিছু বিষয় বা টার্ম রয়েছে যেগুলো আমাদের জানা দরকার। যেমন : 

  • অনলি (Only)

আপনি কেবলমাত্র একটিই ট্রাফিক সোর্স ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন : অর্গানিক বা ইমেইল সার্চ। 

  • ডিসপ্লে (Display)

সাধারণত টেক্সট লিংক এবং ব্যানার বিজ্ঞাপনগুলো এটির অন্তর্ভুক্ত। 

  •  লিড (Lead)

সিপিএতে সবচেয়ে বেশি যে একশন বা কাজটি হয়ে থাকে সেটা হচ্ছে লিড। লিড হচ্ছে এমন একটি কাজ যা একজন মার্কেটারের মাধ্যমে ভিজিটর বা গ্রাহক সম্পন্ন করে থাকেন। যেমন রেজিষ্ট্রেশন ফর্ম পূরণ, নাম, ইমেইল, ফোন নং, এড্রেস বা ঠিকানা সাবমিশন ইত্যাদি। 

  • ইমেইল/জিপ সাবমিট (Email/Zip submit)

সিপিএ অফারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সহজ কাজটি হলো ইমেইল/জিপ সাবমিশন৷ যারা টার্গেট অডিয়েন্স নয়, এটি মূলত তাদের জন্য। এই ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে কেবলমাত্র ইমেল আইডি আর জিপ কোডটি দিতে হয়। তাই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ের কিছু নেই। 

  • ইনসেন্ট(Incent) বা উৎসাহ 

ইনসেন্ট হচ্ছে ইনসেন্টিভাইজড এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এই প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতি উৎসাহিত করার জন্য গ্রাহককে বিনামূল্যে কোনো পণ্য বা রেজিষ্ট্রেশন বা কিছু ডাউনলোড করার সুযোগ দেওয়া হয়। 

  • পে পার কল (Pay Per Call)

যখন কোনো গ্রাহক এফিলিয়েট লিংকে ক্লিক করে তখন তার কিছু তথ্য প্রতিষ্ঠানটির কাছে চলে আসে। যেমন : মোবাইল নং, ইমেইল আইডি ইত্যাদি৷ অতঃপর মার্কেটার সেখান গ্রাহকের ফোন নাম্বার খুঁজে নিয়ে তাদেরকে ফোন করে ঐ প্রতিষ্ঠানের পণ্যের প্রচার-প্রচারণা চালায়। প্রত্যেকটা ফোন কলের জন্য মার্কেটারকে আলাদা আলাদা কমিশন দেওয়া হয়। একেই বলে পে পার কল। 

  • ডাউনলোড/ইন্সটল(Download/Install)

এফিলিয়েট লিংক ব্যবহার করে যখন কেউ কোনো সফটওয়্যার বা অন্য যেকোনো কিছু ডাউনলোড বা ইন্সটল করে, তখন প্রতিটা ডাউনলোড বা ইন্সটলেশন(Installation) এর জন্য মার্কেটারকে কমিশন দেওয়া হয়৷ 

  • ট্রায়াল(Trial)

আপনার দেওয়া এফিলিয়েট লিংক ব্যবহার করে যখন কোনো গ্রাহক কোনো পণ্য বা সেবারে ফ্রি ট্রায়াল নিতে রেজিষ্ট্রেশন করে, তখন সেটার জন্য আপনি কমিশন পাবেন। 

  • পিক্সেল ফায়ার্স 

যখন কোনো গ্রাহক আপনার দেওয়া এফিলিয়েট লিংকে ক্লিক করবে, তখনই একটা লিড সম্পন্ন হবে এবং আপনি সেটার জন্য কমিশন পাবেন। এটাকেই বলা হচ্ছে পিক্সেল ফায়ার্স। 

  • ইউএস/এফআর/সিএ(US/FR/CA)

কিছু সিপিএ অফার রয়েছে যেগুলো কেবলমাত্র আমেরিকা, ফ্রান্স, কানাডা এই দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য। 

  • বিক্রির আয় বা রাজস্ব ভাগাভাগি

আপনার প্রত্যেকটি বিক্রির জন্য সেখান থেকে উপার্জিত রাজস্ব থেকে আপনি কমিশন পাবেন। সেটা হতে পারে একবার বা কয়েকবার বা যতগুলো পণ্য বিক্রি হবে ততবার। 

কেন সিপিএ(CPA) মার্কেটাররা কিছু বিক্রি না করেই কমিশন পেয়ে থাকেন? 

আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে নতুন হয়ে থাকেন বা আপনার যদি সিপিএ মার্কেটিং নিয়ে কোনো ধারণা না থাকে, তাহলে আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে কীভাবে একজন সিপিএ মার্কেটার কোনো পণ্য বিক্রি না করেই কমিশন পেয়ে থাকেন? 

আসলে সিপিএ মার্কেটিং কৌশলটি অন্যান্য ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশলগুলোর তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন৷ আসলে সিপিএ মার্কেটারদের মূল কাজ পণ্যের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে সেটা বিক্রি করা নয়, বরং বিজ্ঞাপন দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে প্রচারণা চালিয়ে গ্রাহককে কোনো প্রতিষ্ঠানের ওয়বসাইট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। গ্রাহক কোনো পণ্য কিনুক বা না কিনুক, সে যদি তার কাজটি সঠিকভাবে করতে পারে, তাহলেই সে তার প্রাপ্য কমিশন পেয়ে যাবে। 

সিপিএ মার্কেটিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন নতুন গ্রাহক খোঁজা৷ ব্যবসার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত জরুরি বিষয়৷ আজকের কোনো নতুন গ্রাহক হয়তো আগামীতে আপনার নিয়মিত গ্রাহক হয়ে যাবে। এই দায়িত্বটা থাকে সিপিএ মার্কেটারদের উপর। 

যখন সিপিএ মার্কেটাররা তাদের ব্যক্তিগত প্লাটফর্মে ঐ প্রতিষ্ঠানের রেজিষ্ট্রেশন লিংকটি দিয়ে দেয় এবং তার প্রচারণা করে, তখন ঐ লিংকে গ্রাহক রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা মাত্রই তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন মোবাইল নাম্বার, ইমেইল অ্যাড্রেস এগুলো প্রতিষ্ঠানটি পেয়ে যায়৷ পরবর্তীতে তারা তাদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের কাছে নিজেদের ব্যবসা বা ব্যবসার প্রচারণা চালিয়ে থাকে। এভাবে গ্রাহকের সাথে তাদের একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। 

মূলত সিপিএ মার্কেটারের কাজই হলো এভাবে নতুন গ্রাহক এনে দেওয়া। আর এটা করতে পারলেই সে তার কমিশন পেয়ে যাবে। বাদবাকি প্রচার-প্রচারণা, পণ্য বিক্রি কিছু নিয়েই তাদের মাথা ঘামাতে হয় না। এভাবে কোনো পণ্য বিক্রি না করেই তারা কমিশন পেয়ে থাকেন। 

সিপিএ(CPA) মার্কেটিং কী ভাবে শিখব?

সিপিএ(CPA) মার্কেটিং কী ভাবে শিখব

সিপিএ মার্কেটিং কীভাবে শেখা যায় এই প্রশ্নটা অনেকের। এই মার্কেটিং কৌশলটি শেখার সহজ কিছু উপায় রয়েছে। নিম্নে সেগুলো আলোচনা করা হলো : 

  • সিপিএ মার্কেটিং টিউটোরিয়াল

বিনামূল্যে সিপিএ মার্কেটিং শেখার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী একটি উপায় হলো সিপিএ মার্কেটিং নিয়ে টিউটোরিয়াল গুলো দেখা। ইউটিউবে আপনি এই বিষয়ক অনেকগুলো ভিডিও পাবেন। তার মধ্যে যেটি আপনার সবচেয়ে পছন্দ হয় সেটিই আপনি বেছে নিতে পারবেন। 

ইউটিউবে দেশি, বিদেশী অনেক ভাষাতেই টিউটোরিয়াল আছে। আপনি আপনার সুবিধা মতো যেটা ইচ্ছা সেটা বাছাই করে সেখান থেকে শিখতে পারবেন। বাংলা ভাষাতেও অনেকগুলো ভালো টিউটোরিয়াল আছে যেগুলো খুব সুন্দর সহজ সাবলীল ভাষায় বর্ণনা করা। তাছাড়া বাংলা টিউটোরিয়াল দেখে শেখার আরেকটি সুবিধা হচ্ছে এই ক্ষেত্রে আপনি সহজেই বিষয়টা আয়ত্ত করতে পারবেন৷ 

তবে আপনি যদি ইংরেজিতে দক্ষ হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনি বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি টিউটোরিয়াল গুলোও দেখতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনি বিশ্বে সিপিএ মার্কেটিংয়ের বর্তমান অবস্থা কেমন, তারা কীভাবে সিপিএ মার্কেটিং করে সেগুলো আপনি সেখান থেকে জানতে পারবেন। 

  • সিপিএ মার্কেটিং কোর্স 

সিপিএ মার্কেটিং শেখার আরেকটি উল্লেখযোগ্য উপায় হলো সিপিএ মার্কেটিং কোর্স করা৷ এটি মূলত ফ্রি বা বিনামূল্যে এবং পেইড বা অর্থ দিয়ে – দুইভাবেই করা যায়। আপনার যেটা ইচ্ছা সেটা ই আপনি বাছাই করে নিতে পারবেন। 

আপনি যদি ফ্রি কোর্স করতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে একটু চারপাশের খবরাখবর নিতে হবে। কোন ওয়েবসাইট বা কোন প্লাটফর্মে বা কোথায় সরাসরি ফ্রি সিপিএ মার্কেটিং কোর্স করাচ্ছে, এগুলো আপনার জানতে হবে। অতঃপর আপনি সহজেই সেখান থেকে শিখতে পারবেন। 

আর যদি পেইড কোর্স করতে চান সেক্ষেত্রে আশা করা যায় আপনি আরো ভালো মতো সেটা শিখতে পারবেন৷ ফ্রি কোর্সে হয়তো সবগুলো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা নাও হতে পারে, কিন্তু পেইড কোর্সে সিপিএ মার্কেটিংয়ের সাথে সংযুক্ত সবকিছু নিয়েই আলোচনা করা হবে। 

অনেক ওয়েবসাইটে অনেকগুলো বিশ্বমানের পেইড কোর্স রয়েছে। আপনি যদি সেগুলো করেন তাহলে আপনি সিপিএ মার্কেটিং সম্পর্কে খুব ভালো একটা ধারণা লাভ করবেন। এবং পরবর্তীতে তা আপনার জন্য খুব উপকারী হবে। তাছাড়া আপনি যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হতে চান আর তারা যদি দেখে যে আপনার সিপিএ মার্কেটিং কোর্স করা রয়েছে সেক্ষেত্রে সেটা আপনার বাড়তি সুবিধা হিসেবে কাজ করবে। আমার জানা মতে বাংলাদেশ এর মধ্যে MABS IT থেকে শিখতে পারেন তারা বেশ ভালো শিখায় তবে এটা আপনার ব্যাক্তিগত ব্যাপার কোথা থেকে শিখবেন ।

এছাড়া আরো বিভিন্নভাবে সিপিএ মার্কেটিং শেখা যায়। যেমন : বই পড়ে, ব্লগ পড়ে, পিডিএফ পড়ে ইত্যাদি। 

সিপিএ(CPA) মার্কেটিং কী ভাবে শুরু করবেন?

আপনার যদি কোনো কোর্স করে বা টিউটোরিয়াল দেখে বা অন্য যেকোনো উপায়ে যদি সিপিএ মার্কেটিং সম্পর্কে নূন্যতম ধারণা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে আপনার পরবর্তী ধাপ হলো সিপিএ মার্কেটিং শুরু করা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আপনি সিপিএ মার্কেটিং কীভাবে শুরু করবেন? 

সিপিএ মার্কেটিং শেখার জন্য আপনাকে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। নিম্নে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো : 

  • উপযুক্ত প্লাটফর্ম বেছে নিতে হবে 

সিপিএ মার্কেটিং শুরু করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো একটি ভালো প্লাটফর্ম বেছে নেওয়া। আপনাকে এমন একটি প্লাটফর্ম বেছে নিতে হবে যেখানে আপনি ভালো মতো কাজ করতে পারবেন। তার জন্য আপনার সিপিএ নেটওয়ার্কিং নিয়ে গবেষণা করতে হবে। কোনটি সবচেয়ে জনপ্রিয়, কোনটির কাজ কেমন, কোনটির কাজ আপনার মন মতো, কোনটি বিশ্বস্ত, কোনটিতে আয় কেমন – এই সমস্ত বিষয় বিবেচনায় রেখে আপনাকে প্লাটফর্ম বেছে নিতে হবে। 

এই ক্ষেত্রে আপনি কিছু রিভিউ সাইটের সাহায্য নিতে পারেন। যেমন : “Affpaying.com”। এই ওয়েবসাইটটি মূলত একটি রিভিউ সাইট থেকে আপনি বিভিন্ন সিপিএ নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানতে পারবেন। তাদের সেবা কেমন, কাজের ধরণ কেমন, কেমন কমিশন দিয়ে থাকে এই ব্যাপারগুলো আপনি এখান থেকে জানতে পারবেন। এছাড়াও আপনি “oDigger.com” ব্যবহার করতে পারেন। এখানেও আপনি সিপিএ নেটওয়ার্কগুলো রিভিউ দেখতে পারবেন। 

আপনি যখন রিভিউগুলো দেখবেন তখন আপনি অনেকগুলো মানুষের মতামত জানতে পারবেন। কোন নেটওয়ার্ক কেমন সেবা দেয়, কোনটিতে গ্রাহকসংখ্যা বেশি, কোনটিতে কেমন কাজ রয়েছে, কতটি কাজ রয়েছে, কোনটি মানুষের পছন্দ – সব আপনি জানতে এবং বুঝতে পারবেন। 

আর এখান থেকেই আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন যে আপনার আসলে কোন প্লাটফর্ম দিয়ে শুরু করা উচিত। যেই নেটওয়ার্ক বা প্লাটফর্মের কার্যক্রম আপনার পছন্দ হবে এবং নিজের উপযোগী মনে হবে, সেটাই আপনি বেছে নিন। আর এখান থেকেই শুরু করুন। 

  • সিপিএ নেটওয়ার্কে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে

আপনার পছন্দমতো এবং উপযুক্ত প্লাটফর্ম নির্বাচনের পর আপনাকে সেটার সাথে যুক্ত হতে হবে। তার জন্য আপনার বাছাই করা প্লাটফর্মটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে সেখানে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে। রেজিষ্ট্রেশন ফর্মে তারা আপনার থেকে কিছু তথ্য চাইবে। সেগুলো ঠিকঠাক মতো দিতে হবে। 

অনেক সময় দেখা যায় একাউন্ট এপ্রুভালের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। এগুলো এড়ানোর জন্য আপনাকে কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে, যেমন : 

  • আপনার কাছে যেসব তথ্য চাওয়া হবে সবগুলো সৎ থেকে উত্তর দিতে হবে। 
  • কী নিয়ে কাজ করতে চান সেটা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করতে হবে। 
  • আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন সেটা তাদের জানাতে হবে, অযথা ভুল তথ্য দিলে ক্ষতি নিজেরই। পরবর্তীতে কোনোভাবে তারা জানতে পারলে সেক্ষেত্রে আপনার সিপিএ মার্কেটিং ক্যারিয়ারই হুমকির মুখে পরে যাবে। 
  • নিজেকে সবসময় আপডেটেড রাখতে হবে যাতে যেকোনো রকম প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন। 

এই পরামর্শগুলো অনুসরণ করলে আশা করা যায় একাউন্ট এপ্রুভালের ক্ষেত্রে কোনো রকম ভোগান্তিতে পরতে হবেনা। 

অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান দেখা যায় রেজিষ্ট্রেশনের পর সাক্ষাৎকারও নিয়ে থাকেন। সেখানে আপনাকে আত্মবিশ্বাস এবং দক্ষতার সহিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। তাহলে আশা করা যায়, আপনার কাজ পেতে আর কোনো বাঁধা থাকবেনা। 

আর কাজে যোগ দেওয়ার পর আপনাকে সততা, ধৈর্য্য আর নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে। আপনি যদি নিজের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রেখে কাজ করে যেতে পারেন তাহলে একসময় আপনি একজন সফল সিপিএ মার্কেটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। 

কিছু শীর্ষ সিপিএ মার্কেটিং এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক

বর্তমান বিশ্বের বেশ কিছু শীর্ষ সিপিএ মার্কেটিং এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক রয়েছে। যেমন : 

সিপিএ মার্কেটিংয়ে বাংলাদেশ 

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও আজ সিপিএ মার্কেটিংয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। আসলে গোটা বিশ্বেই আজ সিপিএ মার্কেটিংয়ের এতো চাহিদা যে, যুগের সাথে তাল মিলাতে বাংলাদেশেরও সিপিএ মার্কেটিংয়ে উন্নতি করা ছাড়া গতি নেই। তাই বাংলাদেশের মানুষও আজ সিপিএ মার্কেটিংয়ের দিকে অনেক বেশি ঝুঁকছে৷ 

যদিও অন্যান্য মার্কেটিং কৌশলগুলোর তুলনায় সিপিএ মার্কেটিংয়ে এখনো এতটা জনপ্রিয় হয় নি বাংলাদেশে। তবে বর্তমানে কিছু সিপিএ মার্কেটারদের অফুরন্ত চেষ্টা আর পরিশ্রমে এই ক্ষেত্রটিও আস্তে আস্তে উন্নতি করছে। এই উন্নতির প্রক্রিয়া চলমান থাকলে আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী সিপিএ মার্কেটিংয়ের মধ্যে উপরের দিকে চলে আসবে। 

শেষ কথা

ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশলগুলোর মধ্যে একদম সহজতম উপায়ে আয়ের উৎস হলো সিপিএ মার্কেটিং৷ আপনার ব্যক্তিগত প্লাটফর্মের ভিজিটর বা গ্রাহক বাড়ান, যাতে অনেকগুলো মানুষ কাজটির ব্যাপারে জানতে পারে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে, লেগে থাকুন। চেষ্টা চালিয়ে যান। তাহলে আপনি অবশ্যই সফল হবেন। 

তৌহিদ

ABOUT TOUHID

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *