Tuesday, May 21, 2024
গাইডব্লগ

সফল ইউটিউবার হওয়ার টিপস | ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম

ইন্টারনেটে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হওয়া প্লাটফর্মগুলোর মধ্যে গুগলের পরেই ইউটিউবের অবস্থান। অর্থাৎ, সার্চ ইঞ্জিনে এর স্থান দ্বিতীয়। ইউটিউব হলো এমন একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম যা আমাদের জীবনযাত্রার মান অনেক সহজ করে দিয়েছে। বর্তমানে আমরা কোনো বিষয় বিস্তারিতভাবে জানতে বা কোনো সমস্যার সমাধানে সবার আগে ইউটিউবেরই সাহায্য নিয়ে থাকি। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, যে ইউটিউবাররা আমাদেরকে এই তথ্যবহুল কন্টেন্টগুলো দিয়ে বিষয়গুলো জানতে বা সমস্যাগুলো সমাধানে সাহায্য করছেন, তারা কীভাবে এই পর্যায়ে এসেছেন, কীভাবেই তারা ইউটিউব চ্যানেল খুলেছিলেন? আজকে আমরা সফল ইউটিউবার হওয়ার টিপস এবং ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

অবশ্যই পড়বেন

ইমেইল মার্কেটিং কী

কন্টেন্ট মার্কেটিং কী

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কী

গ্রাফিক্স ডিজাইন কী

ইউটিউবে কী বিষয়ে ভিডিও তৈরি করলে ভালো হবে?

ইউটিউবে কী বিষয়ে ভিডিও তৈরি করলে ভালো হবে

সফল ইউটিউবার হওয়ার টিপস চাওয়া হলে, বড় বড় ইউটিউবাররা সর্বপ্রথমেই আপনি কী বা কী বিষয় বা নিশ(Niche) নিয়ে কাজ করবেন তা নির্ধারণ করার পরামর্শ দেন। অর্থাৎ, আপনি কী বিষয় নিয়ে কাজ করলে বেশি ভিউ(View) পাবেন, সাবস্ক্রাইবার পাবেন এবং আপনার উপার্জন বেশি হবে, সবার আগে সেটিই আপনাকে ঠিক করতে হবে।

অনেকেই বলেন বিষয়ে আপনার আগ্রহ বেশি বা যেটি আপনার পছন্দের বিষয়, সেটি নিয়েই আপনি ভিডিও তৈরি করুন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আপনার পছন্দের সাথে আপনার অডিয়েন্সের পছন্দ না মিলতেই পারে। সেক্ষেত্রে দেখা যাবে, মানুষ সেটি নিয়ে খুব বেশি সার্চ করছে না বা সেটির খুব বেশি ভিউ হচ্ছেনা। তাই আপনাকে আপনার নিজের আগ্রহ নয়, বরং মানুষের আগ্রহ অনুসারে ভিডিও বানাতে হবে। মানুষ ইউটিউবে কোন বিষয়গুলো বেশি সার্চ করে, কোন বিষয়গুলো মানুষের মাঝে বেশি জনপ্রিয় এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আপনাকে ভিডিও তৈরি করতে হবে।

এই বিষয়গুলো আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে। আপনাকে কিওয়ার্ড রিসার্চিংয়ের মাধ্যমে বের করতে হবে কোন বিষয় নিয়ে বেশি সার্চ করা হয়েছে, কোনটি কতবার সার্চ করা হয়েছে। তারপর আপনাকে দেখতে হবে আপনার অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে কারা কোন বিষয়গুলি নিয়ে কাজ করছেন। কোনটি নিয়ে তুলনামূলক বেশি বা কম কাজ করা হয়েছে, সবকিছু দেখে যাচাই-বাছাই করে আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কী বিষয় নিয়ে কাজ করবেন।

ইউটিউব নিশ আইডিয়া

ইউটিউব নিশ আইডিয়া

  • আনবক্সিং(Unboxing) ভিডিওস।
  • শিক্ষা বিষয়ক ভিডিও।
  • মোটিভেশনাল ভিডিও।
  • হাউ টু ভিডিওস(How To Videos)
  • গেমিং ভিডিও।
  • ভ্লগ(Vlog)।
  • ইউটিউব টিউটোরিয়াল & টিপস।
  • ব্লগিং টিউটোরিয়াল & টিপস।
  • ড্রামা/কমেডি ভিডিও।
  • তথ্যবিষয়ক ভিডিও ইত্যাদি।

কোন ইউটিউব চ্যানেল বেশি জনপ্রিয়

কোন ইউটিউব চ্যানেল বেশি জনপ্রিয়

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সফল ইউটিউবার হওয়ার টিপস হলো আপনাকে কোন ধরনের ইউটিউব চ্যানেলগুলো বেশি জনপ্রিয় তা রিসার্চ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী নিজের ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হবে।

ইউটিউব চ্যানেল খোলা খুব সহজ একটি কাজ। আপনি আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে খুব সহজেই একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারবেন। কিন্তু কথা হচ্ছে, আপনি কী বিষয়ক ইউটিউব চ্যানেল খুলবেন? এক্ষেত্রে আপনাকে কী ধরনের চ্যানেল মানুষ বেশি পছন্দ করে, মানুষের আগ্রহ বা জিজ্ঞাসার জায়গা কোনগুলো, কোনগুলো মানুষের জন্য বেশি উপকারী বা কোনগুলো মানুষ বেশি সার্চ করে, সর্বোপরি আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি কী ভিত্তিক হলে সেখানে থেকে ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারবেন – এই সবগুলো দিক বিচার-বিবেচনা করেই আপনাকে ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হবে।

ইউটিউবে বিভিন্ন ধরনের ইউটিউব চ্যানেল মানুষের মাঝে বেশ জনপ্রিয়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো :

  • Experimental বা পরীক্ষামূলক ভিডিও সম্পর্কিত ইউটিউব চ্যানেল।
  • Funny বা মজার ভিডিও সংক্রান্ত ইউটিউব চ্যানেল। 
  • অনলাইন উপার্জন সংশ্লিষ্ট ইউটিউব চ্যানেল। 
  • Product Review বা পণ্যের রিভিউ সংক্রান্ত ইউটিউব চ্যানেল।
  • প্রযুক্তি বিষয়ক ইউটিউব চ্যানেল।

বর্তমানে, গোটা বিশ্বজুড়ে এই ধরণের ইউটিউব চ্যানেলগুলোয় ব্যাপক প্রচলিত। তারপরেও আপনার উচিত নিজের মতো করে গবেষণা করেই কী ধরনের ইউটিউব চ্যানেল খুলবেন তা নির্ধারণ করা।

ইউটিউব চ্যানেল নাম

ইউটিউব চ্যানেল নাম

প্রয়োজনীয় আরেকটি সফল ইউটিবার হওয়ার টিপস হলো আপনাকে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের এমন একটি নাম ঠিক করতে হবে যা আপনার নিশ এবং আপনার ভিডিওর বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থাৎ, আপনার ইউটিউব চ্যানেলের নাম শুনেই যেনো আপনার প্লেলিস্টের(Playlist) কন্টেন্টগুলো কেমন হবে তা অনুধাবন করা যায়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

তাই, আপনি যদি একজন সফল ইউটিউবার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চান, সেক্ষেত্রে আপনাকে আপনার চ্যানেলের জন্য অনেক ভেবে-চিন্তে নাম রাখতে হবে৷ আপনার ইউটিউব চ্যানেলের নাম যত ইউনিক, সহজ, সাধারণ এবং আকর্ষণীয় হবে ততই আপনার চ্যানেলের সফলতার সম্ভাবনা বাড়বে। ইংরেজিতে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে, “First Impression Is The Last Impression”। আপনার ইউটিউব চ্যানেলের নাম দেখে যদি কোনো অডিয়েন্সের পছন্দ হয়, তখন হয়তো তিনি আপনার প্লেলিস্ট ঘুরে আপনার ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখবেন, অন্যথায় হয়তো তিনি সেটি নাও করতে পারেন।

তাই আপনার ইউটিউব চ্যানেলের নাম রাখার ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরী :

  • ইউনিক নাম বাছাই করতে চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে এমন নাম ব্যবহার করতে চেষ্টা করবেন যা কখনো ব্যবহৃত হয়নি। 
  • সহজ-সাধারণ নাম পছন্দ করতে হবে, যাতে মানুষ সহজে মনে রাখতে পারে।
  • চ্যানেলের নাম একদম সংক্ষিপ্ত রাখার চেষ্টা করবেন, সর্বোচ্চ তিন শব্দের বেশি না হলে উত্তম।
  • আপনার কন্টেন্টের ক্যাটাগরির সাথে আপনার চ্যানেলের নাম যেন প্রাসঙ্গিক হয়। 
  • আপনার চ্যানেলের নাম যেন কিওয়ার্ড ফ্রেন্ডলি হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
  • ইউটিউব চ্যানেলের নামে কোনো রকম নম্বর, প্রতীক বা বিশেষ অক্ষর ব্যবহার করবেন না৷

এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আপনাকে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের নাম ঠিক করতে হবে। ইউটিউব চ্যানেলের নাম কেমন হবে তা পুরোটাই নির্ভর করছে আপনি কোন নিশ বা ক্যাটাগরি নিয়ে কাজ করছেন তার উপর। যেমন : আপনি যদি ইসলামিক কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করেন, সেক্ষেত্রে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের নাম হতে পারে :

  • আলোকিত জীবন
  • Beauty Of Islam
  • দ্বীনের পথে।
  • আল্লাহর বাণী।
  • ইকরা(Iqra) ইত্যাদি।

আবার ধরুন আপনি শিক্ষামূলক কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করছেন। সেক্ষেত্রে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের নাম হতে পারে :

  • Online Learning School
  • Online Teaching Academy
  • Let’s Learn Online
  • Math Library
  • বিজ্ঞানের রহস্য ইত্যাদি। 

অথবা যদি আপনি গেমিং কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের নাম হতে পারে :

  • Gaming World
  • Total Gaming 
  • Gamers Universe
  • PUBG Lovers ইত্যাদি।

তাছাড়া, আপনার চ্যানেলটি যদি প্রযুক্তি বিষয়ক হয় সেক্ষেত্রে আপনার চ্যানেলের নাম হতে পারে :

  • IT Expert
  • Tech World
  • Gadget World
  • Tech Bazar
  • Tech Family ইত্যাদি 

এভাবে আপনি যে নিশ বা বিষয় নিয়ে কাজ করছেন, সেটির উপর ভিত্তি করেই আপনাকে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের নাম ঠিক করতে হবে। 

ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম

ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম

ইউটিউব চ্যানেল খুলতে আপনার খুব বেশি কিছু প্রয়োজন হবেনা। শুধুমাত্র প্রয়োজন হবে :

  • ইন্টারনেট সংযোগ।
  • জিমেইল বা গুগল একাউন্ট।
  • মোবাইল নম্বর।

আপনি আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার যেকোনো ডিভাইস থেকেই ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারেন। যদি মোবাইল থেকে খুলতে চান সেক্ষেত্রে –

  • প্রথমেই আপনাকে ইউটিউব অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিতে হবে। 
  • অতঃপর অ্যাপটিতে প্রবেশ করুন।
  • অ্যাপের একদম উপরে মেন্যুবার পাবেন। সেখানে একদম ডানপাশে দেখবেন প্রোফাইল আইকন রয়েছে। সেখানে ক্লিক করুন।
  • এরপর সেখান থেকে “Your Channel” এ ক্লিক করুন।
  • তারপর সেখানে আপনার চ্যানেলের নাম লিখে “Create Channel” অপশনে ক্লিক করুন।
  • এবং আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি তৈরি হয়ে গেলো।

আর যদি আপনি কম্পিউটার থেকে ইউটিউব চ্যানেল খুলতে চান তাহলে –

  • আপনার ব্রাউজার থেকে YouTube.com এ প্রবেশ করুন।
  • আপনার জিমেইল একাউন্টে সাইন-ইন না করা থাকলে করে নিন।
  • একদম উপরে মেন্যুবার পাবেন। মেন্যুবারের একদম ডানপাশে দেখবেন প্রোফাইল আইকন আছে। সেখানে ক্লিক করুন।
  • অতঃপর সেখান থেকে “Your Channel” এ ক্লিক করুন।
  • আপনার চ্যানেলের নাম লিখে “Create Channel” অপশনে ক্লিক করুন।
  • এভাবে সহজেই আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি খোলা হয়ে যাবে।

ইউটিউব চ্যানেল খোলার পর আপনার চ্যানেলটি ভেরিফাইড(Verified) করতে হবে। কারণ আপনি ইউটিউব চ্যানেল খোলার পর ফোন নম্বর দিয়ে তা ভেরিফাই করার আগ পর্যন্ত ইউটিউবের বেশ কিছু ফিচার আপনার জন্য লকড(Locked) থাকবে, যেমন :

  • ১৫ মিনিটের চেয়ে বড় দৈর্ঘ্যের ভিডিও আপলোড করা।
  • লাইভ স্ট্রিমিং (Live Streaming)
  • কাস্টম থাম্বনেইল (Custom Thumbnail)
  • কন্টেন্ট আইডি ক্লেইম আপিল

এই ফিচারগুলো আনলক(Unlock) করার জন্য আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি ভেরিফাইড করতে হবে। ভেরিফাই করার জন্য একটি সচল মোবাইল নম্বরের প্রয়োজন হবে। ভেরিফাই করার জন্য :

  • ব্রাউজার থেকে Studio.Youtube.Com এ প্রবেশ করুন। 
  • লগিন করা না থাকলে জিমেইল আইডি দিয়ে ইউটিউব একাউন্টে লগিন করে নিন।
  • বামপাশে মেন্যু অপশন থেকে সেটিংসে ক্লিক করুন।
  • চ্যানেল ট্যাবে(Channel Tab) এ ক্লিক করুন।
  • Verify Phone Number অপশনটি ক্লিক করুন।
  • Text Me The Verification Code এ ক্লিক করুন।
  • Select Your Country থেকে আপনার দেশ নির্ধারণ করুন।
  • আপনার ফোন নম্বর দিয়ে Get Code ক্লিক করুন।
  • আপনার ফোনে আসা ছয় ডিজিটের কোডটি দিয়ে সাবমিট অপশনে ক্লিক করুন।

উপরোক্ত প্রক্রিয়াগুলো ভালো মতো অনুসরণ করলে আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি ভেরিফাইড হয়ে যাবে এবং আপনি সব রকম ফিচার উপভোগ করতে পারবেন।

ইউটিউব থেকে আয় করার ৫টি উপায়

ইউটিউব থেকে আয় করার ৫টি উপায়

সফল ইউটিউবার হওয়ার টিপস এর মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস হলো আপনাকে ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জন করার উপায় জানতে হবে। ইউটিউবাররা বিভিন্নভাবেই অর্থ আয় করতে পারেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৫টি উপায় হলো :

  • বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয়

ইউটিউব থেকে আয় করার একদম প্রাথমিক এবং সহজ একটি পদ্ধতি হলো বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করা। আমরা কোনো ভিডিও এর শুরুতে, মাঝে বা শেষে যে বিজ্ঞাপন দেখে থাকি, ওগুলো থেকেই মূলত ইউটিউবাররা আয় করে থাকেন। তবে প্রত্যেকটি বিজ্ঞাপন থেকে ঠিক কী পরিমাণে আয় হয় তা ইউটিউব কতৃপক্ষ নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে, এমনকি ইউটিউবাররাও জানতে পারেন না ঠিক কোন বিজ্ঞাপন থেকে কত আয় তাদের হচ্ছে।

তবে ধারণা করা হয়, কোনো বিজ্ঞাপনের প্রতি ১০০০ ভিউতে ইউটিউবাররা তিন থেকে প্রায় দশ ডলার পর্যন্ত আয় করে থাকেন। বিশেষ করে নতুন ইউটিবারদের জন্য এটি অর্থ আয়ের খুব কার্যকরী একটি মাধ্যম।

  • অ্যাফিলিয়েট লিংকের মাধ্যমে আয়

আসলে বাস্তবতা হচ্ছে, বিজ্ঞাপন থেকে খুব বেশি আয় করা সম্ভব হয় না। তাই ইউটিউবাররা আরো বেশি এবং আরো আকর্ষণীয় উপায়ে অর্থ আয়ের সুযোগ খোঁজেন। তেমনই একটি সৃজনশীল উপায় হলো অ্যাফিলিয়েট লিংকের মাধ্যমে আয় করা। 

এই মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের জন্য আপনাকে কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী আপনি আপনার চ্যানেলে তাদের পণ্যের প্রচার-প্রচারণা করবেন এবং পণ্যটির অ্যাফিলিয়েট লিংকটি আপনার ভিডিও ডিসক্রিপশনে(Description) দিয়ে দিবেন। কেউ যখন সেই লিংকে ক্লিক করে পণ্যটি ক্র‍য় করবে, সেখান থেকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আপনি কমিশন পাবেন। এভাবে যত বেশি আপনার লিংক ব্যবহার করে মানুষ পণ্য কিনবে, আপনার আয়ও তত বেশি হবে। 

  • ডোনেশন(Donation)

ধরুন আপনি একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলেছেন, তবে আপনি সেখান থেকে তেমন উপার্জন করতে পারছেন না। কিন্তু আপনার অডিয়েন্সরা চায় আপনি ভিডিও বানানো চালিয়ে যান। সেক্ষেত্রে তারা আপনার কাছে একটি ডোনেশন পৌঁছে দিবে যাতে আপনি আপনার চ্যানেলের জন্য ভিডিও বানানো চালিয়ে যেতে পারেন। তবে এই ডোনেশনের পরিমাণ সাধারণত খুবই সামান্য হয়ে থাকে। তাই এখান থেকে খুব বেশি আয় করা সম্ভব নয়।

প্যাট্রেয়ন(Patreon) নামক একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই বিষয়টি পরিচালনা করা হয়। মূলত নতুন ইউটিউবাররা যাতে তাদের চ্যানেলের কার্যক্রম চালাতে পারেন, সেজন্যই এই প্রক্রিয়াটি উদ্ভাবন করা।

  • নিজেদের পণ্য বিক্রি করে আয়

ধরুন কোনো ইউটিউবার বা তাদের ইউটিউব চ্যানেল রাতারাতি অনেক বিখ্যাত হয়ে গেলো। তখন তারা সেই চ্যানেলের লোগো, মটো(Moto), নিশ এগুলো নিয়ে বিভিন্ন রকম টি-শার্ট, মগ, ব্যাগ, ক্যাপ(Cap) ইত্যাদি তৈরি করে তা তাদের অডিয়েন্সদের কাছে বিক্রি করতে পারেন। এই প্রক্রিয়ায় বর্তমানে অনেক ইউটিউবার প্রচুর অর্থ উপার্জন করছেন।

  • স্পন্সরশিপের মাধ্যমে আয়

যেসব ইউটিউব চ্যানেল অনেক বিখ্যাত এবং যাদের প্রচুর অডিয়েন্স রয়েছে তাদের জন্য অর্থ আয়ের এটি খুব ভালো একটি মাধ্যম। এই প্রক্রিয়ায় কোনো প্রতিষ্ঠান ঐ চ্যানেলগুলোকে তাদের প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার প্রচার-প্রচারণার জন্য অর্থ দিয়ে থাকেন। সাধারণত বিখ্যাত এবং অনেক ভিউয়ার আছে এই ধরনের চ্যানেলগুলোকে তারা লক্ষ্য করে, কারণ তাদের উদ্দেশ্যই থাকে অনেক বেশি মানুষের মাঝে নিজেদের প্রচার-প্রচারণা পৌঁছানো। এজন্য তারা ঐ চ্যানেলগুলোকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে থাকে।

উপসংহার

আমরা চেষ্টা করেছি আপনাদেরকে সফল ইউটিউবার হওয়ার টিপস দিতে এবং ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম সম্পর্কে ধারণা দিতে। আশা করা যায়, এই টিপসগুলো ভালো মতো অনুসরণ করলে, আপনিও একজন সফল ইউটিউবার হয়ে উঠতে পারবেন।

তৌহিদ

ABOUT TOUHID

One thought on “সফল ইউটিউবার হওয়ার টিপস | ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *