Sunday, April 14, 2024
গাইডব্লগ

ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কী? কিভাবে আপনি একজন ব্যাক-এন্ড ডেভেলপার হবেন? 

বর্তমান সময়ে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট জনপ্রিয়তা ও কার্যকারীতার দিক দিয়ে এমন একটি অবস্থানে পৌঁছে গেছে যে, সরকারি, বেসরকারি, ব্যক্তিগত বিভিন্ন রকম কাজে কম-বেশি আমরা সবাই ওয়েবসাইট ব্যবহার করে থাকি। তাই এখন সবাইই শক্তিশালী ও সুরক্ষিত ওয়েবসাইট বানাতে চান যাতে নিজের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও উপাত্তগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

আর এই কাজটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ব্যাক এন্ড ডেভেলপমেন্ট। আমরা ইতিমধ্যে ফ্রন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট নিয়ে আমাদের ব্লগে আলোচনা করেছি। আজকে আমরা ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কী সে সম্পর্কে জানবো।

সূচিপত্র

ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কী?

ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কী

একদম সহজ ভাষায় বললে, কোনো ওয়েবসাইটের ফাংশনালিটি নির্ধারণের মাধ্যমে ওয়েবসাইটটির ভিতরের অদৃশ্যমান অংশ অর্থাৎ, সার্ভার সাইডের ডেভেলপমেন্ট করার প্রক্রিয়াকে ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বলে।  ওয়েব ডিজাইন  ও থিম ডিজাইন ব্যতীত যে কোডিংগুলো কোনো ওয়েবসাইটের জন্য করা হয়, সবগুলো কাজই ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্টের অন্তর্ভুক্ত।

এই ডেভেলপমেন্টগুলো অদৃশ্যমান বা সার্ভার সাইডে হয়ে থাকে বলে ব্যবহারকারীরা তা দেখতে পান না, কারণ এগুলো মূলত ওয়েবসাইটের ভিতর থেকে ম্যানেজমেন্ট বা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এদের মধ্যে ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অন্যতম।

ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ফ্রন্ট এন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজে ব্যবহৃত স্ট্যাটিক কোডগুলো ওয়েবসাইট বা ওয়েবপেজ থেকে সংগ্রহ করে সেই ডিজাইনটিকে ডায়নামিক করে, অর্থাৎ একটি প্রতিক্রিয়াশীল ওয়েবসাইট বা অ্যাপ্লিকেশনে রূপান্তরিত করে। এই অ্যাপ্লিকেশনের একটি অ্যাডমিন কন্ট্রোল প্যানেল থাকে যেখান থেকে ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট বা যেকোনো কিছুই সহজে পরিবর্তন করা যায়, তার জন্য আলাদা করে কোডিং করার প্রয়োজন হয় না।

ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপারের কাজ কী?

ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপারের কাজ কী

একজন ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপারকে বিভিন্ন রকম দায়িত্ব পালন বা কাজ করতে হয়, যেমন :

  • একজন ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপারকে অবশ্যই ফ্রন্ট এন্ড ওয়েব ডেভেলপিংয়ের কাজও জানতে হবে৷ অন্যথায়, তার পক্ষে ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর কাজ করা সম্ভব না। 
  • ওয়েবসাইটের ভিতরের অংশ বা সার্ভার সাইড নিয়ে কাজ করা। 
  • ওয়েবসাইটের ফাংশনালিটি নির্ধারণ করা৷ 
  • এইচটিএমএল, সিএসএস, জাভাস্ক্রিপ্ট ইত্যাদি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ছাড়াও পাইথন, পিএইচপি, রুবি ইত্যাদি সার্ভার সাইড ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পর্কে ধারণা থাকা।
  • ওয়েবসাইটকে সুরক্ষিত এবং শক্তিশালী করা।
  • স্ট্যাটিক ওয়েবসাইটকে ডায়নামিক ওয়েবসাইটে পরিণত করা।
  • বিভিন্ন ডাটাবেজ ল্যাঙ্গুয়েজ যেমন এসকিউএল(SQL), মাইএসকিউএল(MySQL) ইত্যাদি সম্পর্কে জানা।  
  • ওয়েবসাইট বা অ্যাপ্লিকেশনের জন্য অ্যাডমিন কন্ট্রোল করা। 
  • ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সম্পর্কে জানা। 
  • ওয়েবসাইট বানানোর সময় এবং পরবর্তীতে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে তার সমাধান করা। 
  • এপিআই(API) ম্যানেজমেন্ট ও ডেভেলপমেন্ট করা। 
  • কোডিং ঠিক মতো করা, কোড ঠিক মতো কাজ করছে কিনা তা নিশ্চিত করা এবং কোডিং সংশ্লিষ্ট সকল সমস্যার সমাধান ও রক্ষণাবেক্ষণ করা। 
  • অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমের লজিকগুলো সংগঠিত করা ইত্যাদি।

ফ্রন্ট এন্ড ওয়েব ডেভেলপার বনাম ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপার বনাম ফুল-স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপার

ফ্রন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট, ব্যাক এন্ড ডেভেলপমেন্ট এবং ফুল-স্ট্যাক ডেভেলপমেন্টের পার্থক্য নিয়ে আমরা ইতিমধ্যেই আমাদের ব্লগে আলোচনা করেছি। আপনি ফ্রন্ট এন্ড বনাম ব্যাক এন্ড বনাম ফুল-স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপার এখান থেকে তা দেখে নিতে পারেন। 

ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপার হতে আপনার যে ৯টি দক্ষতা থাকা প্রয়োজন 

একজন ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপার হতে হলে আপনার নূন্যতম ৯টি দক্ষতা অবশ্যই থাকা উচিত। সেগুলো হলো : 

  • পাইথন(Python)

ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর জন্য বহুল ব্যবহৃত এবং জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ হচ্ছে পাইথন। কারণ এটি সহজে অভিযোজনযোগ্য, ব্যবহারযোগ্য এবং সহজে পড়া যায়। পাইথন সিনটেক্সটি(Syntax) সহজতর হওয়ায়, ব্যবহারকারীরা এটির মাধ্যমে সিস্টেমের জটিল কাজগুলো সহজেই করে ফেলতে পারে এবং একই প্রজেক্টে কাজ করা বিভিন্ন ডেভেলপারদের আন্তঃযোগাযোগ করাও সহজ হয়ে যায়। 

পাইথনে অনেক রকম প্রোগ্রামিং স্টাইল ব্যবহার করা যায়, যেমন প্রোসিডিউরাল(Procedural), অবজেক্ট-ওরিয়েন্টেড(Object-oriented), ফাংশনাল স্টাইলস ইত্যাদি, যা এটিকে আরো ভার্সেটাইল(Versatile) বা বহুমুখ কর্মশক্তি সম্পন্ন ব্যাক এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজে পরিণত করে।

  • জাভা(Java)

ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপারদের কাছে অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের জন্য আরেকটি জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ হচ্ছে জাভা। নিজেকে একজন দক্ষ ব্যাক এন্ড ডেভেলপার হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে আপনাকে এই জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়জটি অবশ্যই জানতে হবে। বিভিন্ন বড় বড় প্রতিষ্ঠান যেমন অ্যামাজন(Amazon), উবার(Uber), নেটফ্লিক্স(Netflix) তাদের ওয়েবসাইটের ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজে মূলত জাভাই ব্যবহার করে থাকে।

জাভা একটি পোর্টেবল(Portable) এবং হাই-পারফরম্যান্স প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ যা অবজেক্ট-ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিংয়ের জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়। এর সিনটেক্সটি সহজেই শেখা যায়। তাছাড়া এটি অনেক বেশি স্ক্যালেবল(Scalable)।

  • পিএইচপি(PHP)

প্রায় ৭৯% ওয়েবসাইটেই সার্ভার সাইড প্রোগ্রামিংয়ের জন্য পিএইচপি ব্যবহার করা হয়। পিএইচপি হচ্ছে এক ধরণের স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ যা ডেভেলপারদের কাজগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে করে দেয়। পিএইচপি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য প্রোগ্রামিং ইন্সট্রাকশনস(Instructions) বা নির্দেশাবলীগুলোকে ব্যাখা করে এবং অ্যাপ্লিকেশনের পারফরম্যান্সের উন্নয়ন ঘটায়। 

  • এসকিউএল(SQL)

এসকিউএল বা স্ট্যান্ডার্ড কিউয়েরি ল্যাঙ্গুয়েজ(Standard Query Language) হয়তো আজকাল সর্বক্ষেত্রে তেমন ব্যবহৃত হয় না, তবে ডেভেলপারদের জন্য এটি বরাবরের মতোই অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এসকিউএলের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হচ্ছে ডাটাবেজের সাথে ইন্টারফেস করা।

প্রায় সকল ওয়েবসাইটেরই ডাটা ম্যানেজমেন্টের প্রয়োজন হয় আর এসকিউএল অসংখ্য পরিমাণ ডাটা বা উপাত্ত রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা রাখে। যে ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমগুলোতে এসকিউএল ব্যবহার করা হয় তার কিছু উদাহরণ হলো মাইএসকিউএল(MySQL), মারিয়াডিবি(MariaDB), এসকিউলাইট(SQLite) ইত্যাদি। একজন ব্যাক এন্ড ডেভেলপারের অবশ্যই এগুলোর সাথে পরিচিত থাকা দরকার।

  • গিট(Git)

যদি আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য বহুল প্রচলিত কোনো আধুনিক ভার্সন কন্ট্রোল সিস্টেম খুঁজে থাকেন, সেক্ষেত্রে গিটই হতে পারে সবচেয়ে ভালো বিকল্প। এটি ওপেন-সোর্সড(sourced) এবং সক্রিয়ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। যে যে ডেভেলপারদের কাছে কোডগুলোর ওয়ার্কিং কপি(Working Copy) থাকে, তারা সহজেই কোডগুলোতে কী কী পরিবর্তন করা হয়েছে তার সম্পূর্ণ হিস্টোরি(History) বা ইতিহাস এক্সেস করতে পারে এবং প্রয়োজন মতো যাচাই-বাছাই, এডিট(Edit) এমকি রিস্টোরও(Restore) করতে পারে।

গিট হচ্ছে একটি হাই-পারফর্মিং(High-Performing), ফ্লেক্সিবল(Flexible) এবং নিরাপদ ভার্সন কন্ট্রোল সিস্টেম যার ব্যবহার প্রত্যেক ব্যাক এন্ড ডেভেলপারের জানা প্রয়োজন৷

  • দ্যি ফ্রন্ট এন্ড ট্রাইফেক্টা(Trifecta)

জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ছাড়া ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপারদের দক্ষতার লিস্টটি অপূর্ণ থেকে যাবে। যদিও এগুলো মূলত ফ্রন্ট এন্ড ডেভেলপারদের জন্যই বেশি জরুরী কিন্তু ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপারদের জন্যও প্রয়োজনীয় কারণ ব্যাক এন্ডের কাজ করতে গেলে আপনাকে ফ্রন্ট এন্ডের কাজ সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

ল্যাঙ্গুয়েজ তিনটি হলো :

  • এইচটিএমএল(HTML)
  • সিএসএস(CSS)
  • জাভাস্ক্রিপ্ট(Javascript)

এইচটিএমএল(HTML) এবং সিএসএস(CSS) – এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজগুলোকে ওয়েবসাইটের নাটস এন্ড বোল্টস বা ব্যবহারিক খুঁটিনাটি বলা হয়। কোনো ওয়েবসাইটের গঠন কেমন হবে তা ঠিক করার জন্য এইচটিএমএল ব্যবহার করা হয়। আর ঐ ওয়েবসাইটের ডিজাইন তথা কালার, ফন্ট, টাইপফেস ইত্যাদি উপকরণ দ্বারা স্টাইলিংয়ের জন্য সিএসএস ব্যবহার করা হয়৷ 

আবার, প্রতিক্রিয়াশীল বা ডায়নামিক ওয়েবসাইটগুলোর জন্য একটি উপকারী উদ্ভাবন হচ্ছে জাভাস্ক্রিপ্ট। এটি মূলত একটি ক্লায়েন্ট সাইড প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ যা আপনার ওয়েবসাইটে বিভিন্ন রকম ইন্টারেক্টিভ(Interactive) ফিচার্স যেমন পোল(Poll), স্লাইডশো(Slideshows) এবং বিভিন্ন রকম ফর্ম(Forms) ইত্যাদি সংযোজন করার সুযোগ দেয়। তাছাড়া ওয়েবসাইটের ডায়নামিক উপকরণগুলো যেমন পেজ এনিমেশন(Page Animation), স্ক্রলিং, অডিও, ভিডিও ইত্যাদিতেও এটি সহায়তা করে।

  • যোগাযোগের দক্ষতা

এতোগুলো টেকনিক্যাল দক্ষতার মাঝে ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপারদের কিছু নন-টেকনিক্যাল দক্ষতাও থাকা দরকার। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হলো যোগাযোগের দক্ষতা। আপনার মধ্যে ভালো যোগাযোগের দক্ষতা থাকলে আপনি সহজেই আপনার প্রজেক্টে কাজ করা অন্য ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপার বা ফ্রন্ট এন্ড ওয়েব ডেভেলপারদের সাথে একত্রে মিলেমিশে কাজ করতে পারবেন।

তাছাড়া আপনার মধ্যে ভালো যোগাযোগের দক্ষতা থাকলে যখন আপনাকে উচ্চপদস্থ কোনো ব্যক্তি বা পেশাদার কারো সাথে কাজ বা সাক্ষাৎ করতে হবে, সেক্ষেত্রেও আপনি বাড়তি সুবিধা পাবেন। 

কীভাবে আপনি একজন ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপার হবেন?

একজন ব্যাক এন্ড ডেভেলপার হওয়ার জন্য আপনাকে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। সেগুলো হলো :

ডাটা স্ট্রাকচার(Structure) বা অ্যালগরিদমের(Algorithm) মূল বিষয়গুলোতে ভালো ভাবে পারদর্শী হন

একজন সফল ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপার হওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই ডাটা স্ট্রাকচার বা অ্যালগরিদমের মূল বিষয়গুলোর সাথে পরিচিত হতে হবে। অনেকেই এটিকে জরুরী না ভেবে এড়িয়ে যান এবং সরাসরি ফ্রেমওয়ার্ক শেখা শুরু করেন। কিন্তু আপনার অবশ্যই এই বিষয়গুলো সম্পর্কে নূন্যতম ধারণাটুকু থাকতে হবে৷

সাধারণ কিছু ডাটা স্ট্রাকচার এবং অ্যালগরিদম যেমন : স্ট্যাক(Stack), সারি(Queue), লিংকড লিস্ট(Linked list), গ্রাফ(Graph), ট্রি(Tree), হ্যাশিং(Hashing), সর্টিং(Sorting), সার্চিং(Searching) ইত্যাদির মূল বিষয় বা প্রক্রিয়াটি জেনে রাখলে তা পরবর্তীতে ডেভেলপমেন্টের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে৷ 

প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে

ব্যাক এন্ড ডেভেলপমেন্টের জন্য বেশ কিছু জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ রয়েছে, যেমন : 

  • পাইথন
  • পিএইচপি
  • জাভা
  • এইচটিএমএল
  • জাভাস্ক্রিপ্ট
  • সিএসএস ইত্যাদি

আপনাকে অবশ্যই এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজগুলো জানতে হবে। অন্যথায়, আপনি ব্যাক এন্ড ডেভেলপমেন্টের কাজগুলো করতে পারবেন না। 

ডাটাবেজের মৌলিক বিষয়গুলো জানুন 

বর্তমানে আপনার সব প্রজেক্টে বা ওয়েবসাইটে ডাটাবেজ সিস্টেম রাখা খুবই জরুরী। বর্তমানে অনেকগুলো রিলেশনাল ও নন-রিলেশনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করা হয়, যেগুলো আপনি শিখে রাখতে পারেন। 

জনপ্রিয় রিলেশনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমগুলোর ভিতর রয়েছে – 

  • এমএসকিউএলসার্ভার(MS SQL Server)
  • মাইএসকিউএল(MySQL) ইত্যাদি 

জনপ্রিয় নন-রিলেশনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমগুলোর ভিতর রয়েছে – 

  • মঙ্গোডিবি(mongoDB)
  • রেডিস(Redis) ইত্যাদি। 

ফ্রেমওয়ার্ক শিখুন

যখন আপনি কোনো একটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শিখবেন তখন আপনার এর সাথে সম্পর্কযুক্ত ফ্রেমওয়ার্কগুলোও শিখতে হবে। ফ্রেমওয়ার্কগুলো মূলত তৈরি করা হয় ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনগুলোর ডেভেলপমেন্টে সাহায্য করার জন্য। এটি মূলত ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপারদেরকে একটি ভিত্তি দেয় যার মাধ্যমে তারা কোনো প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে কোনো নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম বা অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে পারেন। 

যদি আপনি জাভা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনি ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে স্প্রিং(Spring) অথবা মাইক্রোনাট(Micronaut) ব্যবহার করতে পারেন। আর যদি আপনি পাইথন ব্যবহার করে থাকেন, সেক্ষেত্রে ফ্রেমওয়ার্ক হিসেনে ফ্লাস্ক(Flask) বা ডিজ্যাঙ্গো(Django) ব্যবহার করতে পারেন। 

নিজে নিজে ব্যবহারিক প্রজেক্ট তৈরি করুন

আপনি কোনো বিষয়ই ততক্ষণ ভালো মতো আয়ত্ত করতে পারবেন না যতক্ষণ না আপনি নিজে তা চেষ্টা করে দেখবেন অর্থাৎ নিজে নিজে চর্চা করবেন। তাই মূল বিষয়গুলি শেখা হয়ে গেলে আপনি নিজে নিজে কিছু করার চেষ্টা দেখতে পারেন, যেমন : টু-ডু-লিস্ট(To-Do-List) অ্যাপ্লিকেশন তৈরি, ক্যালকুলেটর, গ্যালারি(Gallery) সহ যা যা সহজে তৈরি করা যায় সবকিছুই চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

নতুন বা উদ্ভাবনী কিছু করার চেষ্টা করুন 

যেকোনো বিষয়েই বিশেষ করে প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে সবাইই নতুন কোনো আবিষ্কার বা নতুন কোনো ধারণা কিংবা নতুন কোনো সমাধানের অপেক্ষায় থাকে। আপনি চেষ্টা করলে এই নতুনত্বটা আপনার কাছ থেকেই আসতে পারে। যেমন : আজকাল অনলাইন কেনাকাটার জন্য বহুল জনপ্রিয় কিছু সাইট অ্যামাজন(Amazon), ফ্লিপকার্ট ইত্যাদি। আপনি চেষ্টা করলে নিজেও এই ধরণের কোনো অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে পারেন। 

ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপারের চাকরি এবং বেতনের সম্ভাবনা

ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপারের চাকরি এবং বেতনের সম্ভাবনা

ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা বেশ কষ্টসাধ্য এবং সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া৷ আপনি হয়তো ভাবতে পারেন যে এতো কষ্টের ফল কী আসলে পাওয়া যাবে? ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপারদের চাকরির সুযোগ বা আয় কেমন হতে পারে?

আসলে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ক্ষেত্রটির চাহিদা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ওয়েবসাইট মালিকগণ প্রায়ই তাদের সাইটের নিরাপত্তা ও অন্যান্য কাজের জন্য ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপার খুঁজে থাকেন। পুরো বিশ্বেই আজ ব্যাক এন্ড ডেভেলপারদের বিপুল পরিমাণ চাহিদা রয়েছে। সেই তুলনায় বরং ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপারেরই কমতি রয়েছে৷ অর্থাৎ, আপনি যদি নিজেকে একজন সুদক্ষ ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন, তাহলে আপনার জন্য বিশ্বজুড়েই অসংখ্য কাজের সুযোগ রয়েছে৷

সাধারণত জুনিয়র বা সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপারদের গড় বেতন প্রায় ৬১,০৪২ ইউএস ডলার হয়ে থাকে, বাংলাদেশী টাকায় যা প্রায় ৫৩ লাখ ৮ হাজার টাকারও বেশি৷ পরবর্তীতে পদোন্নতি ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির সাথে আয়ের পরিমাণও বাড়তে থাকবে। সিনিয়র ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে পদোন্নতি পেলে তা প্রায় ১১৩,৬৮৭ ইউএস ডলার বা প্রায় ১ কোটি টাকার কাছাকাছি!

এছাড়া আপনি ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মগুলোতেও ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কাজ করতে পারেন। আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী আপনার কাজের সুযোগ এবং উপার্জন দুটোই বাড়বে। সচারাচর ফ্রিল্যান্সার ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপাররা তুলনামূলক বেশি আয় করতে পারেন।

শেষ কথা

ব্যাক এন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্ট অনেক বেশি ধৈর্য্য, পরিশ্রম আর সাধনার কাজ৷ যদি আপনি সবকিছু অতিক্রম করে নিজেকে একজন দক্ষতাসম্পন্ন ব্যাক এন্ড ডেভেলপার হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন, তাহলেই আপনি সফলতার চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছাতে পারবেন।

তৌহিদ

ABOUT TOUHID

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *