Sunday, April 14, 2024
গাইডব্লগ

টি-শার্ট ডিজাইন কী? টি-শার্ট ডিজাইন শিখে কিভাবে আয় করবেন?

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ফ্যাশন ট্রেন্ডসগুলোর ভিতর একটি হলো টি-শার্ট। আজকাল ছোট শিশু থেকে শুরু করে তরুণ, তরুণী, মধ্যবয়স্ক ও বয়স্ক নারী-পুরুষ সকলেরই পছন্দের তালিকায় থাকে টি-শার্ট। টি-শার্ট অত্যন্ত আরামদায়ক একটি পোশাক। অবশ্য শুধু যে এর আরামপ্রিয়তার জন্য এটি মানুষের কাছে এতোটা জনপ্রিয় তা নয়। টি-শার্ট মানুষকে এতো বেশি আকর্ষণ করার আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে এর দৃষ্টিনন্দন এবং আকর্ষণীয় ডিজাইন। আজকে আমরা টি-শার্ট ডিজাইন কী এবং এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

টি-শার্ট ডিজাইন কী?

টি-শার্ট ডিজাইন কী

টি-শার্ট ডিজাইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে প্রথমেই আমাদেরকে বুঝতে হবে টি-শার্ট ডিজাইন কী। গ্রাফিক ডিজাইন এর সুবিশাল ক্ষেত্রসমূহের একটি হলো টি-শার্ট ডিজাইন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, টি-শার্ট কী? টি-শার্ট হলো এমন এক ধরণের শার্ট যা পরিধান করলে আমাদের দেহের উপরিভাগ তথা কাঁধের বেশিরভাগ অংশ ঢেকে থাকে। এই ধরণের পোশাক দেখতে ইংরেজি “T” অক্ষরের ন্যায় বলে, একে টি-শার্ট(T-shirt) বলা হয়।

আর যখন এই টি-শার্টগুলোতে বিভিন্ন রকম দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় ডিজাইন করে সেটাকে একটি নতুন মাত্রা দেওয়া হয়, তখন তাকে টি-শার্ট ডিজাইন বলা হয়। এই ডিজাইনগুলো বিভিন্ন রকমের হতে পারে, যেমন : প্রাকৃতিক দৃশ্য, ঘরবাড়ির ছবি, রাস্তাঘাটের ছবি, গাড়ীর ছবি, কোনো লোগো বা টাইপোগ্রাফী সহ যেকোনো রকম ডিজাইন।

কিছু কিছু টি-শার্টে আবার কোনো রকম ডিজাইন থাকেনা। একদম সাদাসিধে বা এক রংয়ের হয়ে থাকে। তবে বর্তমান সময়ে মানুষ  ডিজাইন করা টি-শার্টই বেশি পছন্দ করে।

টি-শার্ট ডিজাইনের প্রয়োজনীয়তা

টি-শার্ট ডিজাইনের প্রয়োজনীয়তা

টি-শার্ট ডিজাইন কী তা আমরা জানলাম। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমি কেন টি-শার্ট ডিজাইন করবো? অর্থাৎ, টি-শার্ট ডিজাইনের গুরুত্ব কী? নিম্নে টি-শার্ট ডিজাইনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হলো :

  • টি-শার্টের সৌন্দর্য্যবর্ধন করে। 
  • বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য ডিজাইন করা টি-শার্ট ব্যবহার করে। 
  • ঘরে বসেই কাজটি করে অর্থ আয় করা যায়। 
  • অনেক প্রতিষ্ঠান বা অফিসের ড্রেসকোড হিসেবে ডিজাইন করা টি-শার্ট ব্যবহার করা হয়।
  • অনেক সময় কোনো সংগঠন, সংস্থা বা দলের পরিচয় বোঝাতে টি-শার্ট ডিজাইন করা হয়। 
  • টি-শার্ট ডিজাইন করে মার্কেটপ্লেস ও অন্যান্য ক্ষেত্রসমূহ থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করা যায়। 
  • কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিশেষ দিন বা অনুষ্ঠান উদযাপনে ডিজাইনেবল টি-শার্ট বানানো হয়।
  • ভলেন্টেয়ারি সংগঠনগুলো তাদের উদ্দেশ্য বোঝাতে এবং তা প্রচার করতে বিভিন্ন রকম ডিজাইনেবল টি-শার্ট ব্যবহার করে। 
  • নিজেকে ফ্যাশনেবল করে তোলার জন্য মানুষ আজকাল ডিজাইন করা টি-শার্ট ব্যবহার করে।  
  • কম খরচে কোনো ব্যবসা, পণ্য, ব্র্যান্ড বা সেবার প্রমোশন ও মার্কেটিংয়ের উদ্দেশ্য ব্যবহার করা যায়৷ 
  • সমাজ ও দেশের মানুষদের কাছে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছাতে ডিজাইনেবল টি-শার্ট ব্যবহার করা হয়। 
  • বেকারত্ব দূরীকরণের এটি একটি অন্যতম মাধ্যম হতে পারে।

এরকম আরো অসংখ্য কারণে বর্তমানে টি-শার্ট ডিজাইন মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে টি-শার্ট ডিজাইনারদের চাহিদা

বর্তমানে টি-শার্ট ডিজাইনারদের চাহিদা

টি-শার্ট ডিজাইন কী এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা জানলাম। আসলে বর্তমানে অসংখ্য মানুষ বিভিন্ন রকম উদ্দেশ্যে টি-শার্ট ডিজাইনিং করে থাকে। কেউ হয়তো মার্কেটিংয়ের উদ্দেশ্যে, কেউ হয়তো ভলেন্টেয়ারি কাজের জন্য, আবার কেউ হয়তো কেবলই শখের বশে ইত্যাদি। এই সকল কারণে বর্তমানে টি-শার্ট ডিজাইনারদের পুরো বিশ্বব্যাপী প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

আপনি আপনার আশেপাশেই একটু খোঁজ-খবর নিলে দেখবেন, প্রতিনিয়তই বিভিন্ন কারণে অনেকেই টি-শার্ট ডিজাইনার খুঁজছে। কেউ হয়তো কোনো অনুষ্ঠানের জন্য, আবার কেউ হয়তো অন্য কোনো উদ্দেশ্যে। তাছাড়া, আপনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশ করলে প্রায়ই দেখবেন টি-শার্ট ডিজাইনার চেয়ে পোস্ট।

আর ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মগুলোতে তো টি-শার্ট ডিজাইনার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির রীতিমতো ছড়াছড়ি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষেরই স্ব-স্ব প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত টি-শার্ট ডিজাইনার দরকার হচ্ছে। অর্থাৎ, বর্তমান বাজার বা মার্কেটপ্লেসে টি-শার্ট ডিজাইনারদের চাহিদা অনেক বেশি।

টি-শার্ট ডিজাইন করে কি রকম উপার্জন সম্ভব?

টি-শার্ট ডিজাইন করে কি রকম উপার্জন সম্ভব

টি-শার্ট ডিজাইনিং নিয়ে এতো আলোচনার পর স্বাভাবিকভাবেই আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে টি-শার্ট ডিজাইন করে আদতে কত টাকা উপার্জন করা সম্ভব? আসলে এর কোনো নির্দিষ্ট উত্তর নেই। শুধু এটুকুই বলা যায় যে, “সীমাহীন”। এই সীমাটা কারো কারো জন্য ১০-২০ হাজার টাকা হতে পারে আবার কারো জন্য ১.৫-২ লক্ষ টাকাও হতে পারে। স্থান, কাল, মানুষ, ডিজাইন, ডিজাইনারের দক্ষতা, কতগুলো কাজ আপনি পাচ্ছেন সবকিছুর উপরই আয় নির্ভর করে এবং সে অনুযায়ী আয় কম-বেশি হতে পারে।

ধরা যাক, আপনাকে এমন একটি প্রজেক্টে নিয়োগ দেওয়া হলো যেখানে আপনাকে বেশ জটিল এবং সৃজনশীল কিছু ডিজাইন করতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই, এর জন্য আপনার মেধা, শ্রম, সময় সবকিছুই অনেক ব্যয় হবে। তাই এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই আপনি পারিশ্রমিকও বেশি আশা করবেন। যদি আপনি ভালো মতো ডিজাইনগুলো করে দিতে পারেন তাহলে আশা করা যায় আপনি আপনার আশানুরূপ পারিশ্রমিকই পাবেন।

অথবা আপনাকে খুব সহজ এবং সাধারণ কিছু ডিজাইন করতে দেওয়া হলো। সেক্ষেত্রে আপনার কষ্টও কম হবে, সময়ও কম লাগবে। তাই এক্ষেত্রে পারিশ্রমিকও কিছুটা কম হবে।

আপনি কতগুলো কাজ পাচ্ছেন, কেমন কাজ করতে পারছেন এগুলোর উপর আপনার আয় অনেকাংশে নির্ভর করছে৷ যেমন, আপনি ২০০ পিস টি-শার্ট ডিজাইনের অর্ডার পেয়েছেন। কিন্তু আপনি তাদের মন মতো ডিজাইন করতে পারেন নি। সেক্ষেত্রে তারা অবশ্যই আপনাকে পূর্ণ পারিশ্রমিক দিবেনা। যতটুকু আপনার প্রাপ্য ততটুকুই দিবে। কিন্তু যদি আপনি অর্ডারটা ঠিক সময় মতো তাদের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন এবং আপনার ডিজাইন দিয়ে তাদেরকে সন্তুষ্ট করতে পারেন সেক্ষেত্রে আপনি আপনার প্রাপ্যের চেয়েও বেশি পেতে পারেন।

আপনি যখন কয়েকটি প্রজেক্ট সফলতার সাথে শেষ করবেন সুনাম ছড়িয়ে পরবে। তখন আপনি আরো অনেকের থেকেই কাজ পাওয়া শুরু করবেন। এভাবে আপনার আয়ও বাড়তে শুরু করবে।

এর বাইরে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতেও আপনি চেষ্টা করে দেখতে পারেন। সেখানের অবস্থাও অনেকটা একই। আপনি কতগুলো ক্লায়েন্ট পাচ্ছেন, কতগুলো কাজ পাচ্ছেন, কেমন কাজ করতে পারছেন তার উপর নির্ভর করছে আপনি কত আয় করতে পারছেন।

তাছাড়া বেশ কিছু জনপ্রিয় টি-শার্ট ডিজাইন ওয়েবসাইট রয়েছে, যেখান থেকে আপনি ডিজাইন কিনতে এবং বিক্রি করতে পারছেন। সেখান থেকেও আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

টি-শার্ট ডিজাইন করে কীভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়?

টি-শার্ট ডিজাইন করে কীভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়

টি-শার্ট ডিজাইন করে মূলত দুইভাবে আয় করা যায়। একটি হলো অফলাইন মাধ্যমে আরেকটি হলো অনলাইন মাধ্যমে। নিম্নে সেগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো :

অফলাইন মাধ্যমে

ডিজাইনেবল টি-শার্টের চাহিদা বর্তমানে এতো বেশি বেড়ে গেছে যে, প্রায়শই আমাদের আশেপাশের অনেক মানুষ বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের নিজ নিজ কাজে টি-শার্ট ডিজাইনার খুঁজে থাকে।

যেমন ধরুন, কোনো একটি বেসরকারি অফিসের পক্ষ থেকে বনভোজনের আয়োজন করা হলো যেখানে সকলে প্রতিষ্ঠানের লোগো সম্বলিত একই রকম ডিজাইন করা টি-শার্ট পরার পরিকল্পনা করা হলো৷ তার জন্য তাদের এখন টি-শার্ট ডিজাইনার প্রয়োজন হচ্ছে, কারণ এসব ছোট খাটো কাজের জন্য সচারাচর কোনো প্রতিষ্ঠানই আলাদা করে ডিজাইনার রাখেনা। আপনার যদি মনে হয় যে আপনি কাজটি করতে পারবেন সেক্ষেত্রে আপনি তাদের সাথে যোগাযোগ করে সহজেই কাজটি করে ফেলতে পারেন। যদি আপনি আপনার করা ডিজাইন দিয়ে তাদের মন জয় কর‍তে পারেন, সেক্ষেত্রে তারা আপনাকে পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক দিবে।

এরকম আরো শত শত কাজেই মানুষ প্রতিনিয়তই টি-শার্ট বানানোর পরিকল্পনা করে যার জন্য তাদের টি-শার্ট ডিজাইনারের প্রয়োজন হয়। হতে পারে কোনো অনুষ্ঠান বা ভলেন্টেয়ারি কাজ বা ব্যবসার প্রচার-প্রচারণা এরকম আরো অনেককিছুই। উদ্দেশ্য যাই হোক, আপনি যদি আপনার ডিজাইন দক্ষতা দিয়ে তাদেরকে সাহায্য করতে পারেন এবং তাদেরকে আপনার কাজ দ্বারা সন্তুষ্ট করতে পারেন, তাহলে তারা আপনাকে ভালো মানের সম্মানী দিবে।

এমনকি পরবর্তীতেও প্রয়োজন হলে তারা আপনাকে দিয়েই কাজ করিয়ে নিবে। এভাবে ক্লায়েন্টের সাথে আপনার ভালো সম্পর্ক তৈরি হবে এবং আপনার আয়ও বাড়বে।

অনলাইন মাধ্যমে

টি-শার্ট ডিজাইন করে আপনি অনলাইন থেকেও বিভিন্নভাবে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। যেমন :

  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে

আজকাল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রায়ই টি-শার্ট ডিজাইনার খোঁজার বিজ্ঞপ্তি লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের নিজ নিজ কাজ বা প্রজেক্টের জন্য টি-শার্ট ডিজাইনার খুঁজে থাকেন। আর আজকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবকিছুই সহজে প্রাপ্য বলে, টি-শার্ট ডিজাইনার খোঁজার কাজটিও তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই করে ফেলেন।

আপনার যদি তাদের চাহিদা, পারিশ্রমিক সবকিছুই মন মতো হয় সেক্ষেত্রে আপনি তাদের কাজটি করে দিতে পারেন। বিনিময়ে সেখান থেকে আপনি ভালো একটি অর্থ পাবেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের আরেকটি বড় সুবিধা হচ্ছে, আপনি একবার সুনাম অর্জন করে ফেললে, পরবর্তীতে আপনি এখান থেকে আরো অনেক কাজ পাবেন। 

  • ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটগুলোর মাধ্যমে

বর্তমানে বহুল জনপ্রিয় কিছু ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট রয়েছে, যেমন :

  • ফাইভার(Fiverr)
  • আপওয়ার্ক(Upwork)
  • পিপলপারআওয়ার(PeoplePerHour)
  • ফ্রিল্যান্সার(Freelancer)
  • গুরু(Guru) ইত্যাদি

প্রথমেই আপনি এই ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মগুলোতে একটি একাউন্ট খুলে ফেলুন। একাউন্ট খোলার পর দেখবেন এই ওয়েবসাইটগুলোতে দেশী-বিদেশি অনেক ক্লায়েন্টই প্রতিনিয়ত তাদের বিভিন্ন প্রজেক্টের জন্য টি-শার্ট ডিজাইনার খোঁজেন। তাদের চাওয়া-পাওয়া, শর্তাবলী যদি আপনার পছন্দসই হয় সেক্ষেত্রে আপনিও কাজটির জন্য আবেদন করতে পারেন। আপনার কাজ তাদের পছন্দ হলে তারা আপনাকে খুব ভালো মানের অর্থ দিবে। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে তাদের আবারো প্রয়োজন হলে তারা আপনাকে স্মরণ করবে।

তাছাড়া তাদের পজিটিভ রিভিউ দেখে অন্যান্য ক্লায়েন্টদেরও আপনার প্রতি ভরসা জন্মাবে। যদি আপনি আপনার কাজের মাধ্যমে তাদেরও সন্তুষ্ট করতে পারেন, তাহলে সেখান থেকেও আপনি আয় করতে পারবেন। এভাবে দিনে দিনে আপনার উপার্জন বাড়বে।

  • টি-শার্ট ডিজাইন ওয়েবসাইটগুলোর মাধ্যমে

বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় অনেকগুলো টি-শার্ট ডিজাইনিং ওয়েবসাইট রয়েছে যেখান থেকে আপনি ডিজাইন কিনতে এবং বিক্রি করতে পারবেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো : 

  • টিস্প্রিং(Teespring)
  • ক্যাফেপ্রেস(CafePress)
  • য্যাযেল(Zazzle)
  • রেডবাবোল(Redbubble)
  • মার্চ বাই অ্যামাজন(Merch by Amazon)
  • স্যোসাইটিসিক্স(Society6)
  • থ্রেডলেস(Threadless)
  • স্প্রিডশার্ট(Spreadshirt) ইত্যাদি

এই ওয়েবসাইটগুলোতে একাউন্ট খোলার পর আপনি সহজেই এখানে আপনার ডিজাইন করা টি-শার্ট বিক্রি করে আয় করতে পারেন। আপনার ডিজাইন দেখে পছন্দ হলে দেশী-বিদেশী অনেক ক্লায়েন্টই আপনার ডিজাইনটি কিনতে উৎসাহিত হবে।

তবে এই প্লাটফর্মগুলোতে ডিজাইন বিক্রি হওয়ার পুরো টাকাটা আপনি পাবেন না। কিছু অংশ আপনার প্লাটফর্মগুলোকে কমিশন দিতে হবে। তাদের কমিশন কেটে রেখে বাকি অর্থটুকু তারা আপনার কাছে পৌঁছিয়ে দিবে।

এভাবেই টি-শার্ট ডিজাইন করে বিভিন্নভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়।

টি-শার্ট ডিজাইন কীভাবে শিখবেন?

টি-শার্ট ডিজাইন কীভাবে শিখবেন

টি-শার্ট ডিজাইন কী, এর প্রয়োজনীয়তা, টি-শার্ট ডিজাইন করে কেমন আর কীভাবে উপার্জন করা যায় এই বিষয়গুলো আমরা জানলাম। এখন আপনি ভাবতেই পারেন আমি যে টি-শার্ট ডিজাইন করবো তা শিখবো কীভাবে? 

টি-শার্ট ডিজাইনিং শেখার সহজ কিছু পদ্ধতি আছে। নিচে সেগুলো আলোচনা করা হলো : 

  • টি-শার্ট ডিজাইন কোর্স করে

বর্তমানে টি-শার্ট ডিজাইন অনেক জনপ্রিয় বলে, অফলাইন, অনলাইন সবখানেই টি-শার্ট ডিজাইনের অসংখ্য কোর্স রয়েছে। আপনি খুব সহজেই সেখান থেকে কোর্সগুলো করতে পারেন। কোর্সগুলোর ভিতর কিছু আছে সম্পূর্ণ ফ্রি, আবার কিছু আছে পেইড কোর্স। তবে পেইড কোর্সগুলোতে সবকিছু বিস্তারিতভাবে শেখানো হয় বলে, বিষয়টা ভালো মতো আয়ত্ত করা যায়। তাই আমাদের পরামর্শ থাকবে পেইড কোর্স করার।

বাংলা, ইংরেজি সহ বিশ্বের অনেক ভাষাতেই এই কোর্সগুলো করা যায়। আপনি আপনার সুবিধা মতো যেকোনো কোর্সই বেছে নিতে পারেন। তবে আপনি যদি ইংরেজিতে দক্ষ হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে কোর্সেরা(Coursera), ইউডেমি(Udemy) সহ বিশ্বের অনেক স্বনামধন্য ই-লার্নিং প্লাটফর্ম থেকে আপনি আন্তজার্তিক মানের টি-শার্ট ডিজাইনিং শিখতে পারবেন।

  • ইউটিউবে টি-শার্ট ডিজাইনিং টিউটোরিয়াল দেখে

ইউটিউবকে বলা হয় জ্ঞানের ভাণ্ডার। কারণ আমরা আমাদের যেকোনো সমস্যার সমাধানের জন্য সবার আগে ইউটিউবেরই সাহায্য নিয়ে থাকি। ইউটিউবে আমরা আমাদের সমস্যা লিখে সার্চ করি, আর ইউটিউব আমাদেরকে ভিডিও আকারে তার সমাধান দেখার সুযোগ করে দেয়। এই প্লাটফর্মের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, এখানে আপনি কোনো কিছু স্বচক্ষে দেখে এবং বিস্তারিত শুনে তা শিখতে পারবেন।

টি-শার্ট ডিজাইন নিয়েও ইউটিউবে দেশী-বিদেশী অনেক ভাষায়ই অনেকগুলো টিউটোরিয়াল রয়েছে। আপনি সেগুলো যাচাই-বাছাই করে আপনার পছন্দমতো যেকোনোটা বেছে নিয়ে সেখান থেকে সহজেই টি-শার্ট ডিজাইনিং শিখতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সুবিধা হচ্ছে, আপনার কোনোরকম বিভ্রান্তি থাকলে বা কিছু ভুলে গেলে, আপনি পুনরায় টিউটোরিয়াল দেখে তা নিশ্চিত হয়ে নিতে পারবেন। তাই টি-শার্ট ডিজাইনিং শেখার এটি একটি ভালো মাধ্যম।

এছাড়াও আপনি কোনো ট্রেনিং সেন্টার বা কারো দ্বারা ব্যক্তিগতভাবেও টি-শার্ট ডিজাইনিং শিখতে পারেন।

শেষ কথা

টি-শার্ট ডিজাইন কী এবং এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলি নিয়ে আমরা বিস্তারিত জানলাম। আসলে বর্তমানে গোটা বিশ্বেই ডিজাইনেবল টি-শার্টের চাহিদা রীতিমতো আকাশচুম্বী। এই টি-শার্ট ডিজাইন করে আজ অনেকে নিজেদেরকে জনপ্রিয় ডিজাইনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আপনারও যদি টি-শার্ট ডিজাইনিংয়ে সফল একটি ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে আপনার জন্য শুভকামনা। 

তৌহিদ

ABOUT TOUHID

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *